মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা এবার বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। ইজরায়েল ও আমেরিকা-র যৌথ হামলার পর পালটা আঘাত হেনেছে ইরান (Iran Attacks)। কুয়েত, বাহারিন ও আরব আমিরশাহীতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। খামেনেইর অনুগত সেনার তরফে এক বার্তায় বলা হয়েছে, দেশ রক্ষার সময় এসে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে আসতেই কুয়েতের বেসক্যাম্প থেকে আগে থেকেই মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নিয়েছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু সংঘাত শুরু হতেই সেই এলাকাতেই হামলা চালায় ইরান (Iran Attacks)। অন্যদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘সিংহগর্জন’-এ ইরানের বেশ কয়েক জন শীর্ষ কমান্ডার ও আধিকারিকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি। যদিও সঠিক সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়।
আকাশে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া এবং প্রতিহত করার ঘটনায় বেসামরিক বিমান চলাচল বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে (Iran Attacks)। ফলে একে একে আকাশসীমা বন্ধ করতে শুরু করেছে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলি। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমান পরিষেবা সাময়িক বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ বলেও জানা গিয়েছে।
এদিকে একটি ভিডিও বার্তায় কড়া ভাষায় ইরানকে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Iran Attacks)। তিনি বলেছেন, ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে শায়েস্তা করাই আমেরিকার লক্ষ্য। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ও নৌবাহিনী ধ্বংস করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ইরানের সেনাদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, আত্মসমর্পণ করুন, নইলে নিশ্চিত মৃত্যু। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, কোনও জঙ্গি রাষ্ট্রের হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকতে পারে না। ইরানের সাধারণ মানুষের উদ্দেশেও স্বাধীনতার বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছেন, ইরানের বর্তমান শাসকদের সরাতেই ‘সিংহগর্জন’ অভিযান। তাঁর দাবি, আমেরিকা ও ইজরায়েলের পাশাপাশি ইরানের সাধারণ মানুষকেও সুরক্ষা দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের লড়াই, মাটিতে সেনা তৎপরতা এবং বিশ্বশক্তিগুলির সরাসরি জড়িয়ে পড়ায় এই সংঘাত কত দূর গড়াবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।












