মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির আবহে আচমকাই বৃহস্পতিবার ভোরে নিজেদের আকাশসীমা (Iran Airspace) বন্ধ করে দিল ইরান। ঠিক তার আগেই জর্জিয়ার তিবিলিসি থেকে দিল্লিগামী একটি ইন্ডিগো বিমান ছিল ইরানের আকাশে থাকা শেষ বিদেশি উড়ান বলে জানা গিয়েছে। ইরানের এই সিদ্ধান্তের জেরে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে (Iran Airspace)।
ইরান সরকারের (Iran Airspace) তরফে একটি নোটিস টু এয়ারম্যান বা নোটাম জারি করে জানানো হয়, আপাতত বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের জন্য আকাশসীমা বন্ধ থাকবে। কেবলমাত্র বিশেষ অনুমোদিত কিছু আন্তর্জাতিক উড়ান চলতে পারবে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা বলছে, নির্দেশ জারির আগেই ইরান ও ইরাকের আকাশ দ্রুত ফাঁকা হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় বিমান সংস্থা ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া ও স্পাইসজেট যাত্রীদের সতর্ক করেছে। সম্ভাব্য উড়ান বাতিল বা দেরির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যাত্রীদের ফ্লাইট স্ট্যাটাস দেখে নেওয়ার এবং বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজার অনুরোধ করা হয়েছে।
ইন্ডিগো জানিয়েছে, তাদের কিছু আন্তর্জাতিক উড়ান এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রভাবিত হয়েছে (Iran Airspace)। যাত্রীদের জন্য পুনরায় বুকিং অথবা রিফান্ডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, যেসব উড়ান সম্ভব সেগুলি ঘুরপথে চালানো হচ্ছে, ফলে দেরি হতে পারে। যেগুলি ঘুরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়, সেগুলি বাতিল করা হয়েছে। স্পাইসজেটও যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে।
কেন হঠাৎ ইরান এই সিদ্ধান্ত নিল, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এর আগেও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় এবং ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধের সময় ইরান আকাশসীমা বন্ধ করেছিল। যদিও এখন সরাসরি যুদ্ধের খবর নেই, তবু এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব বিমান চলাচলে বড় প্রভাব ফেলেছে। কারণ ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।
এদিকে ইরানের আকাশসীমা বন্ধ হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ঘাঁটি থেকে সেনা সরানোর ঘটনায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের ধারণা, তেহরানের উপর আমেরিকার সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা থেকেই এই প্রস্তুতি। যদিও এক পশ্চিমী সামরিক আধিকারিক সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও ট্রাম্প প্রশাসন অনেক সময়ই প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে এমন কৌশল নেয়।
এর মধ্যেই ইরান প্রতিবেশী দেশগুলিকে সতর্ক করে জানিয়েছে, যদি আমেরিকা হামলা চালায়, তবে মার্কিন সেনা ঘাঁটি থাকা দেশগুলিও তার জবাবের মুখে পড়তে পারে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি যে দ্রুত বদলাচ্ছে, তা স্পষ্ট।













