আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর ভারতে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে (Khamenei Death)। বিরোধীরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দাবি করেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার সরাসরি কোনও মন্তব্য না করে সংযম ও উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। সরকার সূত্রের দাবি, বিশ্বের অধিকাংশ বড় গণতান্ত্রিক দেশও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে (Khamenei Death)।
মঙ্গলবার এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানান, ভারত শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। সমস্যা সমাধানে সংলাপ ও কূটনৈতিক পথই একমাত্র উপায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ায় দেখা গিয়েছে, কোনও বড় গণতান্ত্রিক দেশ খামেনেইর মৃত্যুর (Khamenei Death) জন্য শোকপ্রকাশ করেনি। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ইতিহাসের অন্যতম দুষ্ট ব্যক্তি বলে মন্তব্য করেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, ন্যায় প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে, ইউক্রেন সরকার, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের প্রতিনিধিরাও কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মূল উৎস বলেন (Khamenei Death)। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাজা কাল্লাস নিরপেক্ষ মন্তব্য করে একে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন।
উপসাগরীয় দেশগুলির অনেকেই নীরব থেকেছে বা সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সৌদি আরব সরাসরি কিছু বলেনি, তবে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ জরুরি বৈঠক করেছে (Khamenei Death)। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি তেহরানে তাদের দূতাবাস বন্ধ করেছে। জাপান ও জার্মানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সাতান্ন সদস্যের ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মধ্যে মাত্র কয়েকটি দেশ শোকপ্রকাশ করেছে, যার মধ্যে রাশিয়া, চিন, উত্তর কোরিয়া, ইরাক, তুরস্ক, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়া রয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, খামেনেইর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সব সময় মসৃণ ছিল না। কাশ্মীর ইস্যু থেকে শুরু করে দিল্লির দাঙ্গা এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে তিনি অতীতে একাধিকবার মন্তব্য করেছিলেন, যা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল। সেই কারণে ভারতের বর্তমান অবস্থান জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারের যুক্তি, উপসাগরীয় দেশগুলিতে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় কর্মরত এবং সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান জরুরি। বিরোধীদের অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও ইঙ্গিত মিলেছে শাসক শিবিরে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যেমন বিশ্ব রাজনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে, তেমনই তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ভারতীয় রাজনীতিতেও। এখন নজর, পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং দিল্লি ভবিষ্যতে কী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়।













