Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • Important
  • চিরশত্রু এবার সহযোদ্ধা? গাজা পুনর্গঠনে ভারত-পাকিস্তানকে ডাক আমেরিকার
বিদেশ

চিরশত্রু এবার সহযোদ্ধা? গাজা পুনর্গঠনে ভারত-পাকিস্তানকে ডাক আমেরিকার

india pakistan america
Email :5

দীর্ঘদিনের বৈরী প্রতিবেশী, পরমাণু শক্তিধর দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানকে এবার এক টেবিলে (Gaza Peace board) বসার আমন্ত্রণ জানাল আমেরিকা। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার শাসনব্যবস্থা ও পুনর্গঠনের দায়িত্বে গঠিত মার্কিন নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অফ পিস’-এ (Gaza Peace board) জায়গা পেয়েছে দুই দেশই। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার আওতায় এই ঘোষণা হতেই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি একসঙ্গে কাজ করতে পারবে ভারত ও পাকিস্তান? এই বোর্ড কতটা কার্যকর হবে?

ভারতের আমন্ত্রণ অনেকটাই প্রত্যাশিত বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা (Gaza Peace board)। পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের কোনও আগ্রাসী অতীত নেই। মানবিক সাহায্য, পরিকাঠামো গঠন এবং সংযত কূটনীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছে নয়াদিল্লি। ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, পাশাপাশি আরব দেশগুলির সঙ্গেও ভারতের সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। যুদ্ধ নয়, উন্নয়ন—এই ভাবমূর্তির কারণেই গাজার পুনর্গঠনে ভারতের উপস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।

তবে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি ঘিরে বিতর্ক অনেক বেশি। ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার প্রকাশ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে হামাস এবং পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার যোগসূত্র ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের মাটিতেই হামাসের শীর্ষ নেতারা লস্কর কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই প্রেক্ষিতে গাজার মতো স্পর্শকাতর অঞ্চলে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ইতিহাসও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চারটি যুদ্ধ হয়েছে (Gaza Peace board)। সীমান্ত সন্ত্রাস, অবিশ্বাস ও আদর্শগত বিরোধ দুই দেশের সম্পর্ককে দীর্ঘদিন ধরে বিষাক্ত করে রেখেছে। সার্কের মতো আঞ্চলিক মঞ্চও ২০১৬ সালের পর কার্যত অচল। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় দুই দেশ একসঙ্গে থাকলেও সেখানেও মতবিরোধ লেগেই রয়েছে। কখনও ভারত বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছে, আবার সন্ত্রাস দমন নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়েও বিতর্ক হয়েছে।

গাজার পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এখানে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে বা মতবিরোধ বাড়লে তার মূল্য দিতে হবে সাধারণ মানুষকে। ভারতের কাছে এই বোর্ডে অংশগ্রহণ একটি বড় সুযোগ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা, পশ্চিমি বিশ্বের আস্থা বাড়ানো এবং উন্নয়নমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গ্লোবাল সাউথে নিজের গ্রহণযোগ্যতা আরও জোরদার করার সুযোগ পাচ্ছে নয়াদিল্লি। অন্যদিকে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে জঙ্গি যোগ, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক নজরদারি তার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ পরিকল্পিত। ভারতকে অন্তর্ভুক্ত করে তিনি বোর্ডের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে চেয়েছেন। পাকিস্তানকে রাখার মাধ্যমে বার্তা দিতে চেয়েছেন অন্তর্ভুক্তির, যদিও ঝুঁকি রয়েছে। গাজার ভবিষ্যৎ শুধু প্রশাসন বা পরিকাঠামোর বিষয় নয়, এটি কূটনীতি, ধৈর্য এবং বিশ্বাসযোগ্যতারও বড় পরীক্ষা।

বিশ্ব তাকিয়ে আছে। ভারত ও পাকিস্তানকে এবার এমন এক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে সাফল্যের মাপকাঠি হবে মানুষের জীবন, শিরোনাম নয়। গাজার পুনর্গঠন হবে না কি হতাশা আরও দীর্ঘ হবে, তার অনেকটাই নির্ভর করছে এই দুই ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বী আদৌ সহযোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে কি না, তার উপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts