ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী দক্ষিণ আমেরিকা (Paraguaya)। এমনই ইঙ্গিত দিলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। মঙ্গলবার দুবাইয়ে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিটের ফাঁকে তিনি বলেন, ভারতের বৈশ্বিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কে পরবর্তী বড় অংশীদার হতে পারে দক্ষিণ আমেরিকা। তাঁর মতে, এই ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে পারে মেরকোসুর নামের আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট (Paraguaya)।
ভারত ও আমেরিকার সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিকে ‘স্বপ্নপূরণ’ বলে উল্লেখ করেন পেনা (Paraguaya)। তিনি বলেন, এই চুক্তি প্রমাণ করে দিয়েছে, শক্তিশালী রাজনৈতিক সম্পর্ক ও অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থ থাকলে সব পক্ষের জন্যই লাভজনক চুক্তি সম্ভব। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট।
পেনার (Paraguaya) বক্তব্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে বিশ্ব বাণিজ্যে তিনটি বড় সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একটি ভারত-আমেরিকা চুক্তি, দ্বিতীয়টি ভারত-ইউরোপের মধ্যে আলোচনা এবং তৃতীয়টি হতে পারে ভারত ও মেরকোসুরের মধ্যে সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব। মেরকোসুর জোটে রয়েছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ে। ১৯৯১ সালে এই জোট তৈরি হয়েছিল আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে।
ভারত ও মেরকোসুরের মধ্যে ইতিমধ্যেই একটি প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট চালু রয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে কার্যকর এই চুক্তির আওতায় সাড়ে চার হাজারের বেশি পণ্যে শুল্কছাড় দেওয়া হয়। বর্তমানে সেই চুক্তির পরিধি বাড়ানো ও আরও শুল্কছাড় দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। ভবিষ্যতে এটিকে পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে রূপান্তর করার লক্ষ্য রয়েছে।
পেনা জানান, আমেরিকা ও ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যিক লাভেই সীমাবদ্ধ নয়। এর কৌশলগত গুরুত্বও অনেক বেশি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর দেশ সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী হলেও স্বৈরাচারী শাসনের পক্ষে নয়। দক্ষিণ আমেরিকায় গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ওয়াশিংটন ও ইউরোপের পর এবার কি ভারতের পরবর্তী বড় বাণিজ্য সঙ্গী হতে চলেছে দক্ষিণ আমেরিকা, সেই প্রশ্নই এখন উঠে আসছে আন্তর্জাতিক মহলে।












