ইমরান খান (Imran Khan) দীর্ঘদিন ধরে জেলে বন্দি। শারীরিক অসুস্থতা ও প্রশাসনিক চাপের অভিযোগ উঠলেও আপসের পথে হাঁটতে নারাজ তিনি। সূত্রের খবর, তাঁর সঙ্গে সমঝোতার জন্য দু’বার যোগাযোগ করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। কিন্তু প্রতিবারই সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেন প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী (Imran Khan)।
শাহবাজের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা রানা সানাউল্লা এক আলোচনায় জানান, পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ প্রধান ইমরান খানের (Imran Khan) সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা হয়েছিল। প্রথমবার দুই হাজার চব্বিশ সালে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি এবং ইমরানের দলের এক নেতার উদ্যোগে আলোচনা শুরু হয়। কয়েকদিন আগেও বিদেশি মধ্যস্থতায় দ্বিতীয়বার সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছিল। শুরুতে ইমরান খান আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত দুই ক্ষেত্রেই আলোচনা ভেস্তে যায়।
সানাউল্লার দাবি, ইমরান খান (Imran Khan) স্পষ্ট জানিয়েছেন ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা থাকলেই তিনি সমঝোতার কথা ভাববেন এবং বর্তমান সরকারকে সরে দাঁড়াতে হবে। এই শর্তে রাজি নয় সরকার। তবে সানাউল্লার মন্তব্য সামনে আসতেই তা খারিজ করে দেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার। তিনি জানান, ইমরান খান দোষী সাব্যস্ত এবং তাঁর সঙ্গে সমঝোতার কোনও উদ্যোগ সরকার নেয়নি। ফলে পাকিস্তানের প্রশাসনের মধ্যেই ভিন্ন মত সামনে এসেছে।
শেষ নির্বাচনে ইমরান খানের দল (Imran Khan) সরাসরি ভোটে অংশ নিতে না পারলেও সমর্থিত নির্দল প্রার্থীরা তিরানব্বইটি আসনে জয়ী হন। অন্য কোনও দল এত আসন পায়নি এবং ভোটের শতাংশের নিরিখেও এগিয়ে ছিল তাঁদের সমর্থন। জেল থেকে জোট সরকার গঠনের চেষ্টা করেছিলেন ইমরান। কিন্তু শাহবাজ শরিফ ও বিলাওয়াল ভুট্টো-র রাজনৈতিক সমীকরণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে একাধিক জয়ী প্রার্থীকে নিজেদের দিকে টেনে নিয়ে জোট সরকার গঠন করে বর্তমান শাসক শিবির। শুরু থেকেই এই পরিস্থিতি মেনে নিতে পারেননি ইমরান খান এবং জেলের মধ্যেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন তিনি।













