হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী একটি জাহাজে হামলার ঘটনায় দুই ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও এক জন নিখোঁজ রয়েছেন (Middle East Crisis)। বুধবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। জানা গেছে, ‘ময়ুরী নারী’ নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতে আসছিল (Middle East Crisis)। জাহাজটিতে ছিল থাইল্যান্ডের পতাকা। সূত্রের খবর, জাহাজটি গুজরাট উপকূলের দিকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে আসছিল। সেই সময় আচমকা সেটির উপর হামলা হয়। তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে তা এখনও স্পষ্ট হয়নি।
দুই ভারতীয়র মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Middle East Crisis)। তিনি জানান, সরকার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। তাঁর কথায়, এই আক্রমণের ঘটনায় দু’জন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁরা একটি বাণিজ্যিক জাহাজে কাজ করছিলেন এবং সেই সময়েই এই হামলার ঘটনা ঘটে। বিদেশমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে আহত কয়েকজন ভারতীয়ের চিকিৎসা চলছে। দুবাইয়ে আহত এক ভারতীয় নাগরিক বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং ভারতীয় দূতাবাস তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। হরমুজে এই দুই নাগরিকের মৃত্যুর পর চলমান সংঘাতে মোট মৃত ভারতীয়ের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচে (Middle East Crisis)।
এর আগে জানা গিয়েছিল, ‘ময়ুরী নারী’ নামের ওই জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর খলিফা বন্দর থেকে গুজরাটের কান্দেলা বন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার সময় আচমকা জাহাজটি আক্রান্ত হয় এবং সেখান থেকে কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। থাইল্যান্ডের নৌবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, আক্রমণের ধরন এখনও স্পষ্ট নয়। তবে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। ওমানের নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযানে নেমে ২৩ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে। এখনও তিন জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে (Middle East Crisis)।
গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। ইরানের পক্ষ থেকে আগেই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনও তেলবাহী জাহাজকে যেতে দেওয়া হবে না (Middle East Crisis)। ইরানের বাহিনী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিল, এক লিটার তেলও পশ্চিম এশিয়ার বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। পাল্টা আমেরিকা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ বন্ধ করা হলে ইরানকে ভয়ংকর হামলার মুখে পড়তে হবে। এই উত্তেজনার মাঝেই ইরান জানিয়েছিল, হরমুজে মাইন বোঝাই নৌযান মোতায়েন করা হয়েছে। সেই মাইন নৌযানের কারণেই কি ‘ময়ুরী নারী’ নামের জাহাজটি আক্রান্ত হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জাহাজটিতে ভারতীয় পণ্য ছিল এবং সেখানে ভারতীয় নাবিকরাও কাজ করছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।












