Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • বিদেশ
  • “সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে ইরান”, কঠোর হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্টের
বিদেশ

“সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে ইরান”, কঠোর হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্টের

donald trumpp
Email :2

ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) শনিবার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আজ ইরানের উপর খুব কঠোর আঘাত আসতে পারে। তিনি আরও দাবি করেছেন, আগে যেসব জায়গা বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করা হয়নি, সেগুলিকেও এখন সম্পূর্ণ ধ্বংসের জন্য চিহ্নিত করা হতে পারে।

ট্রাম্প (Donald Trump) ইরানকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের পরাজিত দেশ’ বলেও কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য, ইরান সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত আঘাত চলবে।

এই মন্তব্যের ঠিক আগেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চান। সাম্প্রতিক ইরানি হামলায় যেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি সেই দেশগুলির ভূমি থেকে ইরানের উপর হামলা না হয়, তবে তাদের লক্ষ্য করে আর আক্রমণ করা হবে না (Donald Trump) ।

গত এক সপ্তাহে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হয়েছে। ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার সংঘর্ষ ইরানের সীমান্ত ছাড়িয়ে অন্য দেশগুলিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্য হয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ, যেখানে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত এবং বাহরিন। এই হামলার ঘটনায় ওই দেশগুলি তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ইরান শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে। তবে উপসাগরীয় দেশগুলির তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর ইরান এখন জানিয়েছে, যদি তাদের ভূমি থেকে ইরানের উপর হামলা না করা হয়, তবে তারা ওই দেশগুলির উপর আর আক্রমণ করবে না।

অন্যদিকে ট্রাম্প (Donald Trump) ইরানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানালেও ইরানের প্রেসিডেন্ট তা স্পষ্ট ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ইরানের উপর হামলা হলে দেশটি আত্মরক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই আমেরিকার তিনটি শক্তিশালী বোমারু বিমান ব্রিটেনে পৌঁছেছে। এই বিমানগুলি একসঙ্গে চব্বিশটি ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে ইজরায়েলের সঙ্গে যৌথ হামলার ক্ষেত্রে আমেরিকাকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিতে প্রথমে অস্বীকার করেছিলেন স্টারমার। সেই সিদ্ধান্তে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ব্রিটেনের সেই সিদ্ধান্তের কারণে আমেরিকার বিমানকে অনেক বেশি সময় উড়ে গিয়ে হামলা চালাতে হয়েছে।

তবে পরে ব্রিটেনে মার্কিন বোমারু বিমান নামার সিদ্ধান্ত নিয়ে সেখানকার সংসদ সদস্যদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এক সংসদ সদস্য জারা সুলতানা অভিযোগ করেছেন, ব্রিটিশ ঘাঁটি থেকে আমেরিকার বিমান ইরানে বোমা ফেলতে যাচ্ছে, অথচ সরকার বলছে ব্রিটেন যুদ্ধে জড়ায়নি। তাঁর দাবি, এই হামলায় ইতিমধ্যেই বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

উপসাগরীয় দেশগুলিতে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি থাকলেও ওই দেশগুলি আগেই জানিয়েছিল, তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো যাবে না। তবুও পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। এই সংঘর্ষের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়ছে। জ্বালানির দাম বেড়ে যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও পরিবহণ ব্যবস্থাও সমস্যায় পড়ছে।

ইরানের রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলায় ইতিমধ্যেই অন্তত এক হাজার তিনশোর বেশি সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের হামলায় ইজরায়েলে অন্তত এগারো জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আমেরিকার ছয় জন সেনাও নিহত হয়েছেন বলে খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts