ইরান যুদ্ধ (Iran War) নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কয়েকদিন আগেই তিনি যুদ্ধ কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার তিনি একদিকে যেমন দ্রুত জয়ের দাবি করছেন, অন্যদিকে নতুন করে বড়সড় হামলার হুঁশিয়ারিও দিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহে ইরানের (Iran War) বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তাঁর কথায়, আমেরিকা ইরানকে খুব শক্তভাবে আঘাত করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষের দিকেই এগোচ্ছে এবং খুব তাড়াতাড়ি সব লক্ষ্য পূরণ হয়ে যাবে।
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী (Iran War) কার্যত ভেঙে পড়েছে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিও অনেকটাই শেষ হয়ে গিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল হবে এবং তারা আর সন্ত্রাসে মদত দিতে বা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।
তবে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধও ধরা পড়েছে। একদিকে তিনি বলছেন যুদ্ধ (Iran War) প্রায় শেষ, অন্যদিকে আবার জানাচ্ছেন আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আরও বড় আক্রমণ হতে পারে। এতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নয়।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের আগের সব শীর্ষ নেতা আর নেই (Iran War)। যদিও এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
হরমুজ প্রণালী নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ স্বাভাবিকভাবেই খুলে যাবে। তবে একই সঙ্গে অন্য দেশগুলোকেও এগিয়ে এসে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আরও একটি বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে দ্বন্দ্ব দেখা যায়। তিনি বলেন, শাসন পরিবর্তন আমেরিকার লক্ষ্য নয়। কিন্তু একই সঙ্গে এমন মন্তব্য করেন, যাতে মনে হয় ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই বক্তব্যে পরিষ্কার কোনও রূপরেখা পাওয়া যায়নি। বরং একদিকে জয়ের দাবি এবং অন্যদিকে যুদ্ধ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত—এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।













