আমেরিকার (America) সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনে বড়সড় চাঞ্চল্য। সংস্থার প্রধান ডেটা অফিসার চার্লস বোরগেস হুইসেলব্লোয়ার হয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন যে সরকারি একটি দপ্তর (Department of Government Efficiency – DOGE) প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন নাগরিকের গোপন তথ্য অবৈধভাবে এক ক্লাউড সিস্টেমে আপলোড করেছে, যেখানে কোনও সরকারি নজরদারি ছিল না (America)। তাঁর দাবি, এতে আমেরিকানদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, স্বাস্থ্য তথ্য, আয়ের বিবরণ, পারিবারিক সম্পর্ক থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনী পর্যন্ত সবকিছু ফাঁস হয়ে যেতে পারত।
এই অভিযোগ দায়ের করার পর থেকেই সংস্থার ভেতরে তাঁর ওপর চরম চাপ তৈরি হয় (America)। সহকর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়, কাজের পরিবেশকে শত্রুভাবাপন্ন করে তোলা হয়, এমনকি শারীরিক, মানসিক ও আবেগগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় তাঁকে। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার তিনি সংস্থার কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক বিসিগনানোর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন (America)।
পত্রে বোরগেস লিখেছেন, অভিযোগ জানানোর পর থেকে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে তাঁর কাজ করা “আইনসম্মত ও নৈতিকভাবে অসম্ভব” হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাঁর আইনজীবী আন্দ্রেয়া মেজা এক বিবৃতিতে বলেন, “যা কিছু তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন, তার পর আর বিবেকবোধে সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনে কাজ চালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি।” তবে তিনি জানিয়েছেন, বোরগেস তদন্ত ও যথাযথ তদারকি সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন।
এদিকে প্রশাসন এই পদত্যাগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি এই তথ্য হ্যাকারদের হাতে পৌঁছায়, তাহলে গোটা দেশে বৃহৎ মাত্রায় পরিচয় চুরি, স্বাস্থ্য ও খাদ্য সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়া, এমনকি কোটি কোটি মানুষের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর নতুন করে জারি করার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
DOGE-কে আগেই রিপাবলিকান সরকার বিশাল ক্ষমতা দিয়েছিল সরকারি তথ্য ঘেঁটে অপচয়, জালিয়াতি ও দুর্নীতি রোধের নামে। কিন্তু শুরু থেকেই এই দপ্তরকে ঘিরে বিতর্ক চলছে। এ বছরই শ্রমিক সংগঠন ও অবসরপ্রাপ্তদের সংগঠন DOGE-এর তথ্যপ্রাপ্তি রুখতে মামলা করেছিল। যদিও মাসখানেক আগে বিভক্ত বেঞ্চ সেই তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে দেয়।