বাংলাদেশে পরিবর্তনের হাওয়া স্পষ্ট। ভোটের ট্রেন্ড বলছে, দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh)। প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে সরকার গঠনের আনন্দের মাঝেই সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। সবচেয়ে বড় চাপ দেশের বিপুল ঋণের বোঝা।
বাংলাদেশের (Bangladesh) মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লক্ষ কোটি টাকা। এই অঙ্ক প্রায় তিন বছরের বাজেট বরাদ্দের সমান। অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন সরকারকে কার্যত একটি ডুবন্ত জাহাজের হাল ধরতে হবে। দেশের অর্থনীতি অনেকটাই বস্ত্রশিল্প নির্ভর। কিন্তু একটি মাত্র শিল্পের উপর ভর করে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি টেকসই হয় না—এ কথা বহুবার বলা হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
করোনা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের (Bangladesh) বস্ত্রশিল্প বড় ধাক্কা খেয়েছে। তার পর ২০২৪ সালের গণআন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে গত ১৮ মাসে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার অর্ডার বাতিল হয়েছে। এই সুযোগে ভারত, ভিয়েতনাম ও মায়ানমারের মতো দেশ বাজার দখল করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে বাংলাদেশের বস্ত্রপণ্যে ১৯ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছিলেন। পরে নির্বাচনের দু’দিন আগে ঘোষণা করেন, মার্কিন সুতো ও কাঁচামাল ব্যবহার করলে শুল্ক শূন্য করা হবে। অর্থাৎ সুবিধা পেতে হলে বাংলাদেশকে আমেরিকা থেকে পণ্য আমদানি করতে হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার উপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা (Bangladesh)।
বাংলাদেশে আর্থিক সঙ্কট এখন আরও স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমেছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স সাত শতাংশ কমেছে। টানা দুই বছর রাজস্ব আদায়ও কম হয়েছে। আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রাখতে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল বা আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল-এর কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে বাজেটে। সামাজিক প্রকল্পে কাটছাঁট হয়েছে, বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম।
এর পাশাপাশি চিনের কাছ থেকেও নেওয়া ঋণের বোঝা রয়েছে। অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রধান মহম্মদ ইউনূস-এর আমলেও একাধিক ঋণ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা ওয়াসার আগের ২৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ শোধ না হতেই নতুন প্রকল্পে ৭২১ কোটি টাকা খরচের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭১ কোটি টাকা দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে নতুন সরকারকে বিপুল আর্থিক চাপের মুখে কাজ শুরু করতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই ঋণ পরিশোধ ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বড় দায়িত্ব তাদের কাঁধেই বর্তাবে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।













