বাংলাদেশের কুমিল্লায় একটি পূজার অনুষ্ঠানে বোমা নিক্ষেপের ঘটনাকে ঘিরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে (Bangladesh)। গত সাত মার্চ এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, পূজার সমাবেশকে লক্ষ্য করেই হামলাকারীরা বোমা ছুড়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় কয়েক জন আহত হন (Bangladesh)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলায় গুরুতর জখম হন মন্দিরের প্রধান পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী (Bangladesh)। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। ঘটনাটি ঘটার পরেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও সামনে এসেছে। সেই ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, পূজার অনুষ্ঠানের মাঝেই হঠাৎ বোমা ছোড়া হচ্ছে। এর পরেই উপস্থিত মানুষের মধ্যে চরম ভয় ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং সবাই প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে শুরু করেন (Bangladesh)।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই হাজার চব্বিশ সালের অগস্ট মাসে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, দুই হাজার ছাব্বিশ সালের শুরু পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি ঘটনার নথি সামনে এসেছে। এর মধ্যে খুন, মন্দির ভাঙচুর, ধর্ষণ এবং সম্পত্তি দখলের মতো অভিযোগও রয়েছে।
দুই হাজার পঁচিশ সালের ডিসেম্বর থেকে দুই হাজার ছাব্বিশ সালের জানুয়ারির মধ্যেই অন্তত পনেরো জন হিন্দুকে খুন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ধর্ম অবমাননার অভিযোগ, চাঁদাবাজি অথবা রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে এই ঘটনাগুলির যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত কয়েক মাসে একাধিক হিংসাত্মক ঘটনার কথাও সামনে এসেছে। গত একত্রিশ ডিসেম্বর শরিয়তপুরে খোকন চন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তিকে ছুরি মেরে, মারধর করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তিনি একটি পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে কোনওরকমে প্রাণে বাঁচেন।
ডিসেম্বর মাসের আঠারো তারিখ ময়মনসিংহে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁর দেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়াও জানুয়ারির পাঁচ তারিখ যশোরে সংবাদপত্রের সম্পাদক রানা কান্তি বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। জানুয়ারির ছয় তারিখ নওগাঁয় মিথুন সরকার এবং শরৎ মণি চক্রবর্তী নামে দুই জনের উপর জনতার হামলার ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে পালাতে গিয়ে মিথুন সরকার জলে ডুবে মারা যান বলে জানা যায়।













