পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত যত বাড়ছে, ততই বিশ্বের নজর এখন হরমুজ প্রণালীর দিকে (Middle East Crisis)। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সংকীর্ণ জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কোনও জাহাজ ঢুকলে গুলি চালানো হবে। তবে মার্কিন সেনাবাহিনীর দাবি, প্রণালী এখনও খোলা আছে, যদিও বাণিজ্যিক জাহাজগুলি সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করছে (Middle East Crisis)।
ইরানের(Middle East Crisis) বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক শীর্ষ উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে জানান, হরমুজ বন্ধ। কেউ পার হওয়ার চেষ্টা করলে জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। এই বক্তব্যের পরই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ ছড়ায়।
অন্যদিকে মার্কিন সামরিক সূত্র জানায়, হরমুজ প্রণালী আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়নি (Middle East Crisis)। ইরান সেখানে কোনও টহল দিচ্ছে না বা বন্ধের নির্দেশ কার্যকর করছে না। জলপথে মাইন পাতা হয়েছে, এমনও কোনও প্রমাণ মেলেনি। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বহু বাণিজ্যিক জাহাজ সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করছে।
সবচেয়ে সরু অংশে হরমুজের প্রস্থ মাত্র তেত্রিশ কিলোমিটার। ইরান ও ওমানের জলসীমার মধ্যে পড়লেও আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে এটি বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত বলে ধরা হয়। বিশ্বের প্রায় কুড়ি শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয় বলে বিশেষজ্ঞদের মত (Middle East Crisis)।
শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের ভিতরে যৌথ বিমান হামলা চালানোর পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত। ওই হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতা ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করা হয়। পাল্টা ইরান ইজরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও জানান, ইরানের স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌক্ষমতা ভেঙে দিতেই এই সামরিক অভিযান। তাঁর দাবি, বিশ্ব জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত রাখাই ছিল মূল লক্ষ্য।
এরপরই ইরানের বিদেশমন্ত্রী সেয়েদ আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ তোলেন, আমেরিকা ইজরায়েলের হয়ে ইচ্ছাকৃত যুদ্ধে নেমেছে। তাঁর বক্তব্য, ইরানের পক্ষ থেকে কোনও হুমকি ছিল না। এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই উত্তেজনা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তা হলে বিশ্ব তেলবাজারে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। এখন প্রশ্ন, প্রণালী ঘিরে হুঁশিয়ারি কি বাস্তব রূপ নেবে, না কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুলবে।













