বাংলার মাটিতেই তৈরি হতে চলেছে রেলের ইতিহাস। দেশের মধ্যে প্রথম বন্দে ভারত (Vande Bharat) স্লিপার ট্রেন চালু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। আগেই এই ঘোষণা করেছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। বিধানসভা ভোটের আগে এই ঘোষণা রাজ্যের জন্য বড় উপহার বলেই মনে করা হচ্ছে (Vande Bharat)। আরও বড় চমক হল, বাংলায় দাঁড়িয়েই একসঙ্গে দুটি ট্রেনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। হাওড়া থেকে ছেড়ে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি যাবে অসমের গুয়াহাটি পর্যন্ত।
বন্দে ভারত (Vande Bharat) স্লিপার ট্রেন চালু হওয়ার খবরে যাত্রীদের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে। এই ট্রেনে চেপে অনেক কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছনো যাবে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, আরামদায়ক স্লিপার কোচ এবং উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থাই এই ট্রেনের মূল আকর্ষণ।
আগামী ১৭ জানুয়ারি বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মালদহের নিত্যানন্দপুরে তাঁর জনসভা রয়েছে। সেই সভামঞ্চের পাশেই থাকছে সরকারি অনুষ্ঠানের আলাদা মঞ্চ। সেখান থেকেই একসঙ্গে দুটি ট্রেনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী (Vande Bharat)। একটি হাওড়া থেকে ছাড়া বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন এবং অন্যটি কামাখ্যা রুটের ট্রেন।
এই অনুষ্ঠানের আগে নতুন সাজে সেজে উঠছে মালদা টাউন রেল স্টেশন। অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় স্টেশনের একাংশের আমূল পরিবর্তন হয়েছে। এখনও উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। আর এই মালদহ থেকেই রেলের এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে বলে মনে করছে রেলমহল।
নিরাপত্তা, যাত্রী সুরক্ষা এবং পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে সোমবার মালদা টাউন স্টেশনে যান রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সিইও সতীশ কুমার। সঙ্গে ছিলেন মালদা ডিভিশনের ডিআরএম মনীশ কুমার গুপ্তা। তাঁরা স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, যাত্রী প্রতীক্ষালয় এবং অন্যান্য কাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন। সামগ্রিক উন্নয়ন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন রেলকর্তারা। ভবিষ্যতে আর কী কী কাজ দরকার, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
এই ট্রেন চালু হওয়া ঘিরে রাজনীতিও শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষ খুশি হলেও তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিতেই দেখছে। শাসক দলের অভিযোগ, নিরাপত্তা ও যাত্রী সুরক্ষার বিষয়টি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। কিছুদিন আগে রাজ্যের মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের ব্যাগ ফার্স্ট ক্লাস কামরা থেকে চুরি যাওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তৃণমূল নেতৃত্ব রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।









