বিহার রাজনীতিতে বড়সড় চমক। শনিবার আরার জনসভায় নিজেকে মহাগঠবন্ধনের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করলেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব (Tejashwi Yadav)। এই জনসভা ছিল রাহুল গান্ধীর ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’-র শেষপর্ব। এতদিন ধরে রাহুল গান্ধী মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নিয়ে চুপ ছিলেন, কিন্তু এবার তেজস্বীর গর্জনে সেই নীরবতা ভাঙল।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে সরাসরি আক্রমণ করলেন তেজস্বী (Tejashwi Yadav)। তিনি বললেন, “নীতীশ কুমার শুধু আমার নীতিগুলো কপি করছেন। তিনি আসল মুখ্যমন্ত্রী নন, নকল।” জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন— “আপনারা কি একজন আসল মুখ্যমন্ত্রী চান, না একজন ডুপ্লিকেট?” এই মন্তব্যে ভিড় হাততালিতে ফেটে পড়ে।
এরপরই তিনি স্পষ্ট করে ঘোষণা করেন, তিনি-ই (Tejashwi Yadav) মহাগঠবন্ধনের “অরিজিনাল মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী।” পাশে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী সব শুনলেও কোনো কথা বলেননি। তবে সমাজবাদী পার্টি নেতা অখিলেশ যাদব প্রকাশ্যে তেজস্বীকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “তেজস্বীই বিহারের আগামী মুখ্যমন্ত্রী হবেন এবং রাজ্যকে উন্নতির পথে নিয়ে যাবেন।”
কিছুদিন আগেই রাহুল গান্ধীকে যখন সাংবাদিকরা সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন— তেজস্বীকে (Tejashwi Yadav) মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন করবেন কি না, তখন তিনি উত্তর এড়িয়ে গিয়েছিলেন। তাই আজকের তেজস্বীর ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে বড়সড় বার্তা দিল।
রাহুল গান্ধীর এই ১৬ দিনের যাত্রা মূলত ভোটার তালিকার সংশোধন নিয়ে অভিযোগ এবং ভোট চুরির প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে। ওই মঞ্চে এম কে স্টালিন, অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক হেভিওয়েট নেতাও উপস্থিত ছিলেন।
তবে রাজনৈতিক মহলের দাবি— রাহুল গান্ধীর নীরবতার আসল কারণ হলো আসন ভাগাভাগির জটিলতা। যদিও কংগ্রেস বলছে, “কোনো দ্বন্দ্ব হবে না।” কিন্তু অতীতে আরজেডি ও কংগ্রেসের দরকষাকষির রেকর্ড একেবারেই সহজ ছিল না। তাই নির্বাচন সামনে রেখে এবারও আসন ভাগাভাগি বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।