মালদহে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও ও আটকে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। আদালতের মতে, এই ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিপথে চালিত করা। এমনকি পশ্চিমবঙ্গকে ‘সবচেয়ে বিভাজিত রাজ্য’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে আদালতের পর্যবেক্ষণে (Supreme Court)।
প্রধান বিচারপতি (Supreme Court) সূর্য কান্ত এদিন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ঘটনা আদালতের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার এক নির্লজ্জ প্রচেষ্টা। তাঁর মতে, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্যই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনওভাবেই বিচারকদের মনোবল ভাঙতে দেওয়া হবে না।
এই ঘটনার জেরে রাজ্যের একাধিক শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত (Supreme Court)। মুখ্য সচিব, পুলিশ প্রধান, জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে শোকজ করা হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিশেষ করে কেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের যথাযথ নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি, তা নিয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। শুধু তাঁদের কাজের জায়গা নয়, তাঁদের পরিবার ও সম্পত্তির নিরাপত্তাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেখানে যেখানে তাঁরা যাবেন বা কাজ করবেন, সব জায়গায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা রাখতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই একাধিক আধিকারিককে বদলি করেছে, ফলে প্রশাসনের হাতে সব ক্ষমতা নেই। তবে আদালত এই বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েই পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।
এই ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং নির্বাচনের আবহে এই ঘটনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।












