ভোটের আগে বিভিন্ন রাজ্যে নগদ সাহায্য ও বিনামূল্যের প্রকল্প ঘোষণা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলল দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানতে চেয়েছে, ভোটের ঠিক আগে কেন এই ধরনের নগদ সাহায্যের প্রকল্প চালু করা হয়। আদালতের মতে, এতে দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং এক ধরনের তোষণের রাজনীতি তৈরি হয় (Supreme Court)।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে তামিলনাড়ুর একটি মামলার শুনানির সময় এই প্রসঙ্গ উঠে আসে (Supreme Court)। বিদ্যুৎ সংশোধনী বিধি চ্যালেঞ্জ করে একটি বিদ্যুৎ সংস্থার করা মামলার শুনানির মধ্যেই বিনামূল্যের প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতিরা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি রাজ্যে ভোটের আগে হঠাৎ নানা উন্নয়ন প্রকল্প ও নগদ সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে। সরাসরি নগদ অর্থ দেওয়া হলে মানুষের কাজের আগ্রহ কমে যেতে পারে কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়।
সিনিয়র আইনজীবী গোপাল সুব্রহ্মণ্যমের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, কখনও কখনও এই প্রবণতা নিয়ে আদালত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে (Supreme Court)। দেশজুড়ে এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে কি না, যেখানে কে বিল দিতে পারবে আর কে পারবে না সেই বিভাজন তৈরি হবে, তাও জানতে চায় বেঞ্চ।
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন পশ্চিমবঙ্গ সরকার যুবসাথী প্রকল্পে বেকারদের নগদ সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করেছে এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, মধ্য প্রদেশ ও ছত্তিসগঢ়-সহ একাধিক রাজ্যে ভোটের আগে একই ধরনের প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভময় মৈত্র মনে করেন, আদালতের বক্তব্য বাস্তবসম্মত। তাঁর মতে, দেশের সম্পদ সঠিকভাবে সবার কাছে পৌঁছালে মানুষের কষ্ট অনেকটাই কমত। তবে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কারণে সেই লক্ষ্য পূরণ হয় না। তিনি বলেন, নগদ সাহায্য দেওয়া ভাল হলেও কতদিন তা চালানো সম্ভব এবং কাজের বিনিময়ে অর্থ দেওয়া হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।









