কার্গিল যুদ্ধের বীর সেনা অফিসার, ‘লাদাখের সিংহ’ নামে পরিচিত সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk) আর নেই। শুক্রবার ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে লেহতে নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল একষট্টি বছর। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে লাদাখ সহ গোটা দেশের সেনা মহলে।
১৯৯২ সালের কার্গিল যুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতার জন্য তিনি (Sonam Wangchuk) মহাবীর চক্রে ভূষিত হন। সেই সময় তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে মেজর পদে কর্মরত ছিলেন। তুষারঢাকা দুর্গম চোরবত লা অঞ্চলে কোনও রকম ভারী অস্ত্রের সহায়তা ছাড়াই তিনি তাঁর দলকে নেতৃত্ব দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অবস্থান দখল করেন। সেই অভিযান ছিল কার্গিল যুদ্ধে ভারতের অন্যতম বড় সাফল্যগুলির একটি (Sonam Wangchuk)।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। তাঁর শ্যালক জানান, কয়েকদিন ধরে তাঁর বুকে ব্যথা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার তাঁকে সেনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নানা পরীক্ষা করা হলেও সব রিপোর্ট স্বাভাবিক ছিল (Sonam Wangchuk)। এরপর তাঁরা বাড়িতে ফিরে আসেন এবং পরের দিন আরও কিছু পরীক্ষা করার কথা ছিল। কিন্তু শুক্রবার ভোরে আচমকাই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। সকালে যখন তাঁকে ডাকতে যাওয়া হয়, তখন আর কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী পদ্মা আংমো ও এক পুত্রকে রেখে গিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী দিল্লিতে কর্মরত এবং ছেলে বেঙ্গালুরুতে কাজ করেন। তাঁর মা লেহতেই থাকেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বৌদ্ধ ধর্মীয় নিয়ম মেনে শেষকৃত্যের আগে সমস্ত আচার অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হবে।
উনিশশো চৌষট্টি সালের সাতাশে জানুয়ারি তাঁর জন্ম। দিল্লির একটি নামী স্কুলে পড়াশোনা করেন তিনি এবং ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলায় আগ্রহী ছিলেন। পরে কলেজের পড়াশোনা ছেড়ে উনিশশো সাতাশি সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। প্রথমে অসম রেজিমেন্টে থাকলেও পরে তিনি লাদাখ স্কাউটসে যোগ দেন, যাদের ‘স্নো ওয়ারিয়র’ নামেও ডাকা হয়।
কার্গিল যুদ্ধে লাদাখ স্কাউটসের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের সাহসিকতার জন্য ইউনিট হিসেবেও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল।











