মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বিশ্বজুড়ে (Rupee fall)। তেলের দাম বাড়ছে, সোনার দাম লাফিয়ে উঠছে, শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে। এই অস্থিরতার মাঝেই আরও বড় চিন্তার খবর, মার্কিন ডলারের তুলনায় টাকার দামে রেকর্ড পতন ঘটেছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশ আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি আরও বড় সঙ্কটে পড়তে পারে (Rupee fall)।
সোমবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার মূল্য ছিল ৯১.৮৭ টাকা (Rupee fall)। মঙ্গলবার সরকারি ছুটির কারণে বাজার বন্ধ ছিল। বুধবার বাজার খুলতেই দেখা যায়, টাকার দাম আরও পড়েছে। ডলারের তুলনায় প্রায় ০.৭ টাকা দুর্বল হয়ে দাঁড়িয়েছে ৯২.১৭ টাকায়। এটিকে এখনও পর্যন্ত অন্যতম বড় পতন বলেই মনে করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৮.৬ শতাংশ (Rupee fall)। ব্যারেল প্রতি তেলের দাম বেড়ে ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। যা ভারতীয় মুদ্রায় সাত হাজার টাকারও বেশি। কয়েক দিন আগেও ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ছিল ৬৭ ডলার। তেলের দাম বাড়লে আমদানির জন্য বেশি ডলার খরচ করতে হয়। ফলে ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং টাকার দাম কমতে থাকে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে টাকার উপর আরও চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
এদিকে শেয়ারবাজারেও ধস অব্যাহত। সেনসেক্স এদিন প্রায় দেড় হাজার পয়েন্ট পড়ে ৭৮ হাজার ৫৯৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। নিফটি ৫০ সূচকও ৪৮৫ পয়েন্ট নেমে ২৪ হাজার ৪০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ১ দশমিক ৯৫ শতাংশ পতন হয়েছে নিফটির। বাজারে আতঙ্ক স্পষ্ট।
তেলের জোগান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাশিয়া ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। প্রয়োজনে তেল সরবরাহে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছে। তবে অতীতে মার্কিন শুল্ক হুঁশিয়ারির পর রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমিয়েছিল ভারত। আবার যদি রাশিয়ার উপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়, তা হলে মার্কিন চাপ বাড়তে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
সব মিলিয়ে তেল, ডলার, শেয়ারবাজার এবং টাকার দামে একসঙ্গে চাপ পড়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ভারতের অর্থনীতির উপর তার বড় প্রভাব পড়তে পারে। এখন নজর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপরেই।













