Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • Important
  • মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা! তেলের দামে আগুন, বাড়তে পারে পেট্রোলের দাম
দেশ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা! তেলের দামে আগুন, বাড়তে পারে পেট্রোলের দাম

middle east crisis 22
Email :4

মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা যুদ্ধের প্রভাব ধীরে ধীরে বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে (Middle East Crisis)। এই সংঘাতের জেরে দ্রুত বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণে সমস্যা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় উত্থান দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম একশো দশ ডলারেরও বেশি হয়ে গেছে। দুই হাজার কুড়ি সালের পর এই প্রথম এত বড় উত্থান দেখা গেল তেলের দামে (Middle East Crisis)।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যুদ্ধ যদি দীর্ঘদিন ধরে চলে, তাহলে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়তে পারে (Middle East Crisis)। পাশাপাশি বিমান ভাড়া এবং পরিবহণ খরচও বেড়ে যেতে পারে। তার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। এতে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় 24 শতাংশ বেড়ে 174 ডলার 74 সেন্টে পৌঁছেছে। অন্যদিকে নাইমেক্সের লাইট সুইট ক্রুডের দামও 26 শতাংশের বেশি বেড়ে প্রায়114 ডলার 78 সেন্ট হয়েছে। এই গতিতে দাম বাড়তে থাকলে খুব শীঘ্রই ব্যারেল প্রতি তেলের দাম দেড়শো ডলার ছুঁতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে ভারত সরকার জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশে সরবরাহে কোনও সমস্যা হবে না। বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি চালিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, এই মুহূর্তে দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা নেই।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগে ভারত যেখানে সাতাশটি দেশ থেকে তেল আমদানি করত, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে চল্লিশে পৌঁছেছে। এর ফলে দেশের মোট তেল আমদানির বড় অংশ এখন হরমুজ প্রণালীর বাইরে থেকেও আসছে। প্রায় পঁয়ষট্টি থেকে সত্তর শতাংশ তেল এখন অন্য উৎস থেকে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

তবে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, যুদ্ধ যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলে, তাহলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। ভারত তার মোট তেলের চাহিদার প্রায় 85 শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে তার প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়বে।

তেলের দাম বাড়লে তেল বিপণন সংস্থাগুলিও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানোর জন্য চাপ তৈরি করতে পারে। এতে পরিবহণ খরচ বাড়বে এবং বিমান ভাড়াও বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহণের খরচ বাড়লে বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়বে। রং, টায়ার এবং রাসায়নিক শিল্পসহ একাধিক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে। সেই বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের উপরেই চাপানো হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর দিকেও নজর দিচ্ছে ভারত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি প্রায় চল্লিশ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। দুই হাজার ছাব্বিশ সালের ফেব্রুয়ারির হিসেব অনুযায়ী এখনও রাশিয়াই ভারতের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশ। প্রতিদিন প্রায় দশ লক্ষ ব্যারেল তেল রাশিয়া থেকে ভারতে আসে। অর্থাৎ ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় পঁচিশ থেকে তিরিশ শতাংশই আসে রাশিয়া থেকে।

তবে সরবরাহ বজায় থাকলেও বিশ্ববাজারে তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতির উপর চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts