দিনের বেলা, ব্যস্ত রাস্তা। চারপাশে অনেক মানুষ চলাফেরা করছেন। হঠাৎই এক কিশোরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এক ব্যক্তি। হাতে লোহার রড (Madhya Pradesh)। কোনও সুযোগ না দিয়েই তিনি ওই কিশোরকে বেধড়ক মারতে শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে কিশোরের দেহ। রক্তে ভেসে যায় চারপাশ। কিন্তু এরপর যা ঘটেছে, তা শুনলে গা শিউরে ওঠে। অভিযোগ, কিশোরের শরীর থেকে বেরিয়ে আসা রক্ত পান করতে শুরু করেন ওই ব্যক্তি (Madhya Pradesh)। এমনকি দেহ থেকে মাংস কেটে খাওয়ারও চেষ্টা করেন তিনি। ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের দামোহ জেলার সামান্যা গ্রামে। ঘটনায় গুড্ডা প্যাটেল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ (Madhya Pradesh)।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে (Madhya Pradesh)। মৃত কিশোরের নাম ভরত বিশ্বকর্মা। জানা গিয়েছে, একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দিদির বাড়িতে যাচ্ছিল ভরত। দুপুর প্রায় দেড়টা নাগাদ হঠাৎ পিছন দিক থেকে তার উপর হামলা চালান গুড্ডা প্যাটেল। অভিযোগ, লোহার রড দিয়ে প্রথমে তাকে আঘাত করা হয়। তাতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কিশোরটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এরপরও থামেননি অভিযুক্ত। হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে বারবার ভরতের মাথায় আঘাত করতে থাকেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় কিশোরটির (Madhya Pradesh)।
এরপরই ঘটতে থাকে আরও ভয়ংকর ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, কিশোরের মাথা থেকে বেরিয়ে আসা রক্ত হাতে নিয়ে পান করতে শুরু করেন অভিযুক্ত। শুধু তাই নয়, ভরতের দেহ থেকে মাংস কেটে খাওয়ার চেষ্টাও করেন তিনি। চারপাশে বহু মানুষ দাঁড়িয়ে থাকলেও কেউ এগিয়ে এসে বাধা দেওয়ার সাহস পাননি। অনেকেই নিজেদের ফোনে পুরো ঘটনাটি রেকর্ড করেন। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, হামলার পর অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে গ্রামবাসীরা তাকে ধাওয়া করে ঘিরে ফেলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ, পুলিশ আসার পরেও কয়েকজনের উপর আক্রমণ করার চেষ্টা করেন তিনি। এদিকে গুরুতর জখম অবস্থায় ভরতকে উদ্ধার করে দামোহ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, কোনও ধরনের উস্কানি ছাড়াই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযুক্ত গুড্ডা প্যাটেলের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এমনকি স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে তিনি আগে জেলেও গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তের কোনও মানসিক সমস্যা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।













