মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা— নিখোঁজ হওয়া এক বি.বি.এ শেষ বর্ষের ছাত্রী ৭ দিন পর বাড়ি ফিরলেন। আর ফিরে এসে জানালেন, তিনি নাকি ট্রেনে পরিচিত এক ইলেকট্রিশিয়ানকে বিয়ে করেছেন (Love marriage)!
পুরো ঘটনাটা যেন হুবহু সিনেমার গল্প। বলিউডের ১৮ বছর আগের হিট ছবি ‘জব উই মেট’-এর মতোই কাহিনি। যেখানে কারিনা কাপুর প্রেমিকের সঙ্গে পালানোর পরিকল্পনা করলেও, পরে রতলামের ট্রেনে শাহিদের সঙ্গে দেখা হয় এবং সেখান থেকেই বাঁক বদলায় গল্প (Love marriage)।
বাস্তব জীবনে, ইন্দোরের ছাত্রী শ্রদ্ধা প্রথমে তাঁর প্রেমিক সার্থকের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করার পরিকল্পনা করেছিলেন (Love marriage)। কিন্তু সার্থক রেলস্টেশনে আসেননি। একা শ্রদ্ধা তখন উঠে পড়েন রতলামগামী ট্রেনে। অবাক ব্যাপার, সেই একই ট্রেনে ছিলেন ইন্দোরের এক কলেজের ইলেকট্রিশিয়ান করণদীপ, যাঁর সঙ্গে শ্রদ্ধার আগে থেকেই পরিচয় ছিল (Love marriage)।
শ্রদ্ধার দাবি, ট্রেনের ভেতরেই করণদীপকে দেখে তিনি চমকে যান। আর যাত্রাপথেই দু’জনে সিদ্ধান্ত নেন বিয়ে করার। পরে তারা মন্দসৌরে নেমে মহেশ্বরে চলে যান, প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে। সেখানে এক মন্দিরে বিয়ে করেন তাঁরা। এরপর সনওয়ারিয়া সেঠ মন্দিরে গিয়ে প্রণাম সেরে সরাসরি ইন্দোর থানায় এসে হাজির হন শ্রদ্ধা।
তবে পুলিশের সন্দেহ দূর হয়নি। তাঁরা শ্রদ্ধাকে বিবাহ সনদ জমা দিতে বলেছেন। অন্যদিকে, সার্থকের দাবি, তিনি বহুদিন ধরেই শ্রদ্ধার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি।
শ্রদ্ধার বাবা অনিল তিওয়ারি মেয়ের এই আচমকা বিয়ের (Love marriage) ঘটনায় স্তম্ভিত। তাঁর কথায়—
“শ্রদ্ধা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, কিন্তু আমি এই বিয়ে মানি না। আমি টাকা পাঠিয়েছিলাম ফেরার জন্য, তবু সে করণদীপের সঙ্গেই থেকে গেল।”
তিনি আরও দাবি করেছেন, করণদীপ নিজেই তাঁকে জানিয়েছেন যে শ্রদ্ধা আত্মহত্যার চেষ্টা করছিলেন, তখন তিনি তাঁকে বাঁচান। বাবা মনে করছেন মেয়ের মানসিক অবস্থা স্থির নয়।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, অনিল তিওয়ারির ধারণা— মেয়ের ছবি উল্টো করে ঝোলানোর পরই তিনি ফিরে এসেছেন! নিখোঁজ অবস্থায় পরিবার এমনকি ₹৫১,০০০ পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল খবর দিলে।
২৩ আগস্টের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত দুটো নাগাদ মোবাইল ছাড়া একাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন শ্রদ্ধা। তারপর পুরো এক সপ্তাহ তাঁকে খুঁজে পায়নি কেউ।
তবে শেষ পর্যন্ত শ্রদ্ধা নিজেই ফিরে এলেও পরিবারের অনিশ্চয়তা কাটছে না। অনিল তিওয়ারির কথায়— “মেয়েটা এখন প্রাপ্তবয়স্ক। সে যদি আলাদা থাকতে চায়, তবে যাই হোক আমাদের মানতে হবে।”