মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর আবার ইরানের তেল কেনার পরিকল্পনা করছে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলি। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থার প্রতিবেদনে এই তথ্য সামনে এসেছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের জেরে এশিয়াজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ার পরই এই সিদ্ধান্তের কথা ভাবা হচ্ছে (Iranian Oil)।
তেল শোধনাগারের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তারা ইরানের তেল (Iranian Oil) কিনতে প্রস্তুত। তবে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ এবং মার্কিন প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট নিয়ম জানার অপেক্ষায় রয়েছে তারা। বিশেষ করে অর্থ লেনদেন কীভাবে হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে (Iranian Oil)।
এর আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় কিছুটা ছাড় পাওয়ার পর ভারতীয় সংস্থাগুলি রাশিয়ার তেল কেনার দিকেও ঝুঁকেছিল। কারণ, ভারতের তেলের মজুত অন্য অনেক দেশের তুলনায় কম। ফলে জ্বালানির যোগান নিশ্চিত করতে বিকল্প পথ খুঁজছে তারা।
জানা গিয়েছে, শুধু ভারত নয়, এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের তেল সংস্থাও ইরানের তেল (Iranian Oil) কেনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। মার্কিন প্রশাসন সম্প্রতি ৩০ দিনের একটি ছাড় দিয়েছে, যার ফলে সমুদ্রে থাকা ইরানের তেল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেনা ও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে সমুদ্রে বিপুল পরিমাণ ইরানের তেল (Iranian Oil) মজুত রয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার হিসেবে, প্রায় কয়েকশো মিলিয়ন ব্যারেল তেল জাহাজে করে বিভিন্ন অঞ্চলে অপেক্ষা করছে।
এশিয়ার বহু দেশই মধ্যপ্রাচ্যের তেলের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেলের সরবরাহ কমে গিয়েছে। ফলে অনেক শোধনাগার উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে।
তবে ইরানের তেল কেনার ক্ষেত্রে এখনও কিছু সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে অর্থ লেনদেনের পদ্ধতি এবং পুরনো জাহাজে তেল পরিবহণ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাছাড়া আগের চুক্তির বিষয়গুলিও সামনে আসতে পারে (Iranian Oil)।
২০১৮ সালে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার আগে ভারতসহ একাধিক দেশ ইরানের বড় ক্রেতা ছিল। এখন পরিস্থিতি বদলালেও, নতুন করে সেই সম্পর্ক গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে জ্বালানি সংকটের এই সময়ে ইরানের তেল নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে।













