স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তির পথে এগোল কেন্দ্র। প্রায় ৩ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকার রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ বা ডিএসি। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চুক্তি কার্যকর হলে এটি হবে দেশের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা চুক্তি।
প্রতিরক্ষা সচিবের নেতৃত্বাধীন সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় পর্ষদ ইতিমধ্যেই প্রকল্পটির (Rafale) মূল্যায়ন করে ছাড়পত্র দিয়েছে। এবার ডিএসি-র অনুমোদনের পর চুক্তি সইয়ের পথ আরও পরিষ্কার হল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা হবে। এর মধ্যে ১৮টি সরাসরি ফ্রান্স থেকে আনা হবে। বাকি বিমানগুলি ভারতে তৈরি করা হবে।
প্রথম দফায় ভারতে নির্মিত রাফালগুলিতে ৩০ শতাংশ দেশীয় যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হবে। পরে ধাপে ধাপে সেই হার বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পও উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, প্রায় এক দশক আগে ফরাসি সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে চুক্তির (Rafale) সময় ভারতীয় বায়ুসেনা ১২৬টি যুদ্ধবিমানের প্রয়োজনের কথা জানিয়েছিল। কিন্তু সেই সময় ৩৬টি রাফাল কেনা হয়। এদিকে ধাপে ধাপে মিগ-২১ ও মিগ-২৩ বাতিল হওয়ায় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমানের সংখ্যা কমে গেছে। শুধু ৩৬টি রাফাল বা হিন্দুস্থান অ্যারোনটিকস লিমিটেডের তৈরি তেজস মার্ক-১এ দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ সম্ভব নয়।
চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালের শেষ থেকে তেজস মার্ক-১এ বায়ুসেনার হাতে তুলে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও একটি বিমানও হাতে পায়নি বায়ুসেনা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে ৪২টি ফাইটার স্কোয়াড্রন থাকার কথা। বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৩২-এ।
এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়ে দ্রুত যুদ্ধবিমান ঘাটতি মেটানোর পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। নতুন রাফাল চুক্তি সেই দিকেই বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছে প্রতিরক্ষা মহল।













