পাকিস্তান সীমান্তের কাছে অবস্থিত ভারতীয় সেনার (Indian Army) ওয়েস্টার্ন কমান্ডের সদর দপ্তরে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফর ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর সেখানে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডার স্যামুয়েল পাপারো। প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মনোজ কুমার কতিয়ার (Indian Army)।
চণ্ডীগড়ে অবস্থিত এই ওয়েস্টার্ন কমান্ড (Indian Army) বিশেষভাবে আলোচনায় আসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়। সেসময় এখান থেকেই পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি ও বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানা যায়। তাই সেই সেনা সদর দপ্তরে (Indian Army) মার্কিন প্রতিনিধিদের আগমনকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।
ওয়েস্টার্ন কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিনিধি দলকে পশ্চিম ফ্রন্টের সামরিক দৃষ্টিভঙ্গি, অপারেশন সিঁদুরের প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারতীয় সেনার ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। তবে এই সফরের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এই সফরকে ঘিরে বিরোধীরা কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেছে। শিবসেনার উদ্ধব শিবিরের নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী অভিযোগ করেছেন, ভারতের কৌশলগত সিদ্ধান্তে আমেরিকার প্রভাব বাড়ছে। তাঁর বক্তব্য, মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিজের দেশের স্বার্থে কাজ করছেন, কিন্তু ভারতের স্বার্থ কে দেখছে, সেই প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে।
কংগ্রেসও এই ইস্যুতে কেন্দ্রকে নিশানা করেছে। তাদের দাবি, অতীতে পাকিস্তানের আইএসআই কীভাবে পাঠানকোটের বায়ুসেনা ঘাঁটিতে প্রবেশাধিকার পেয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গ তুলে তারা কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছে।
যদিও কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই ধরনের সফর বিরল হলেও অস্বাভাবিক নয়। দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মতবিনিময়ের অংশ হিসেবেই এই সফরকে দেখা উচিত। তবে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক থামার কোনও লক্ষণ আপাতত নেই।












