Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • Important
  • রাশিয়ার তেল কিনতে আমেরিকার ‘অনুমতি’? বিতর্ক বাড়তেই বড় বার্তা ভারতের
দেশ

রাশিয়ার তেল কিনতে আমেরিকার ‘অনুমতি’? বিতর্ক বাড়তেই বড় বার্তা ভারতের

pm modi and crude oil
Email :3

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে (Crude Oil)। এই পরিস্থিতিতে দাবি উঠেছিল, আমেরিকা নাকি ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ত্রিশ দিনের অনুমতি দিয়েছে। এই মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হতেই এবার মুখ খুলল ভারত সরকার (Crude Oil)।

শনিবার সকালে সরকারি তথ্য সংস্থা প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরোর তরফে সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে জানানো হয়েছে, দেশের স্বার্থে যেখানে সস্তায় তেল পাওয়া যাবে সেখান থেকেই তেল কিনবে ভারত। তেলের উৎস বদলালেও জ্বালানি সরবরাহে কোনও সমস্যা হবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে (Crude Oil)।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ অঞ্চল ঘিরে উত্তেজনা থাকলেও তার সরাসরি প্রভাব ভারতের উপর পড়বে না। কারণ ভারতের কাছে পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে। পাশাপাশি ভারত এখন আর সীমিত কয়েকটি দেশের উপর নির্ভর করে না। আগে যেখানে সাতাশটি দেশ থেকে তেল আমদানি করা হত, এখন তা বেড়ে চল্লিশটি দেশে পৌঁছেছে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন উৎস থেকে তেল কেনা সম্ভব হচ্ছে (Crude Oil)।

রুশ তেল প্রসঙ্গে জানানো হয়েছে, আগামী ত্রিশ দিনে রাশিয়া থেকে তেলের আমদানি প্রায় চল্লিশ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে মোট তেল আমদানির প্রায় পঁয়ষট্টি থেকে সত্তর শতাংশই হরমুজ অঞ্চলের বাইরে থেকে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরকারি সূত্রের দাবি, ভারতের উন্নত তেল পরিশোধন ব্যবস্থা বিশ্বের নানা জায়গা থেকে আসা অপরিশোধিত তেলকে সহজেই ব্যবহারযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর করতে পারে। ফলে উৎস বদল হলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহে কোনও সমস্যা হবে না।

সম্প্রতি দাবি উঠেছিল, ত্রিশ দিনের জন্য রাশিয়া থেকে তেল কেনার অনুমতি দিয়েছে আমেরিকা। সেই মন্তব্য সামনে আসতেই বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয় কেন্দ্র সরকারকে। প্রশ্ন ওঠে, অন্য কোনও দেশ কীভাবে ভারতকে তেল কেনার অনুমতি দিতে পারে।

তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ভারতের মোট তেলের চাহিদার প্রায় পঁচাশি শতাংশই আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের হিসাব অনুযায়ী রাশিয়াই এখনও ভারতের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেলের সরবরাহকারী। প্রতিদিন প্রায় দশ লক্ষ ব্যারেল তেল রাশিয়া থেকে আমদানি করে ভারত। অর্থাৎ দেশের মোট তেল আমদানির প্রায় পঁচিশ থেকে তিরিশ শতাংশই আসে রাশিয়া থেকে।

এই পরিসংখ্যান থেকেই অনেকের মতে পরিষ্কার হয়ে যায় যে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য কোনও দেশের অনুমতির প্রয়োজন নেই। যদি সত্যিই এমন অনুমতি লাগত, তাহলে এত বড় পরিমাণে রুশ তেল আমদানি করা সম্ভব হত না।

উল্লেখ্য, দুই হাজার বাইশ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার তেল ভারতের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। কারণ তখন সেই তেল তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছিল। সেই সময়ও ভারত আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং কূটনীতিতে এই ধরনের দরাদরি স্বাভাবিক বিষয়। তাই রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ‘অনুমতি’ শব্দটি ব্যবহার করা ঠিক নয় বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts