আসলে তাঁর দুই সন্তান। কিন্তু এসআইআর শুনানির নোটিসে লেখা রয়েছে, তাঁর আরও চার ছেলে আছে (Murshidabad)। অর্থাৎ, সরকারি নথি অনুযায়ী ওই ব্যক্তির মোট সন্তানের সংখ্যা ছয়। এই তথ্য জানার পরই সংসারে শুরু হয় প্রবল অশান্তি। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে শেষ পর্যন্ত শুনানিতে গিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানালেন তিনি। সঙ্গে নিয়ে গেলেন বাড়ির চারটি পোষ্য খাসি।
ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) কান্দি থানার নবগ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নবগ্রাম হাটপাড়ার বাসিন্দা হারু শেখ দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় থাকেন। সম্প্রতি এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির জন্য তাঁর কাছে একটি নোটিস আসে। সেই নোটিসে দেখা যায়, হারু শেখের ছয় জন ছেলে রয়েছে। নোটিস দেখে তিনি কার্যত আকাশ থেকে পড়েন। কারণ বাস্তবে তাঁর মাত্র দুই সন্তান।
এই ভুল তথ্য ঘিরেই শুরু হয় পারিবারিক অশান্তি। কীভাবে আরও চার সন্তান এল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে সংসারে। স্ত্রী সন্দেহ করতে শুরু করেন, অন্য কোথাও কি গোপনে আরও সংসার পেতেছেন হারু শেখ? এই সন্দেহ থেকেই শুরু হয় ঝগড়া ও মনোমালিন্য। শেষ পর্যন্ত রাগ করে স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে যান বলে অভিযোগ হারুর (Murshidabad)।
এই পরিস্থিতিতে নিজের নির্দোষতা প্রমাণ করতে তিনি কান্দির গোকর্ণ-২ পঞ্চায়েত কার্যালয়ে আয়োজিত এসআইআর হিয়ারিং ক্যাম্পে হাজির হন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর দুই ছেলে এবং চারটি পোষ্য খাসি। খাসিগুলির গলায় ঝোলানো ছিল প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা ছিল, ‘আমার বাবার নাম হারু শেখ’। এই দৃশ্য দেখে মুহূর্তের মধ্যেই হিয়ারিং ক্যাম্পে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে (Murshidabad)।
হিয়ারিং ক্যাম্পে উপস্থিত কমিশনের এইআরও ও মাইক্রো অবজার্ভারদের সামনে হারু শেখ বলেন, “এই দেখুন স্যার, এরা আমার দুই ছেলে। আর এই চারটে বাড়ির খাসি। ভালো করে দেখে নিন। আবার যেন ভুল না হয়।” তাঁর এই কথা শুনে কিছুক্ষণের জন্য হতবাক হয়ে যান আধিকারিকরাও (Murshidabad)।
হারু শেখ আরও অভিযোগ করেন, কমিশনের এই ভুলের জেরেই তাঁর সংসার ভেঙে যাওয়ার মুখে। তাঁর কথায়, স্ত্রী বিশ্বাস করতে চাইছেন না যে নোটিসে লেখা চার সন্তান ভুয়ো। তিনি বলেন, “কমিশন আগে আমার স্ত্রীকে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুক। সন্তানের হিসেব ভুল করে আমার সংসারে অশান্তি লাগিয়ে দিয়েছে।” সাধারণ মানুষকে আর কত হয়রানি করা হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এই ঘটনা নিয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে কান্দির হিয়ারিং ক্যাম্পে খাসি নিয়ে প্রতিবাদের এই ছবি ইতিমধ্যেই এলাকায় মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় মহলে চলছে জোর চর্চা।













