ভোটের আবহে নানা ধরনের প্রচার কৌশল সামনে আসছে। কোথাও প্রার্থী কল পাম্প করে জল তুলছেন, কোথাও সেলুনে গিয়ে দাড়ি কাটছেন, আবার কোথাও সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসে খাওয়া-দাওয়া করছেন (TMC Candidate)। এই সব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় মস্করাও চলছে। তবে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে যা ঘটেছে, তা সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে (TMC Candidate)।
সেখানে এক প্রার্থীকে দেখা গিয়েছে সরাসরি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে পড়তে। গ্লাভস হাতে নিয়ে চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক (TMC Candidate)।
রঘুনাথপুরের তৃণমূল প্রার্থী হাজারি বাউরি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন (TMC Candidate)। জানা গিয়েছে, গত ৯ এপ্রিল রাতে এক আহত ব্যক্তিকে তিনি হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরপরই তিনি অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে পড়েন বলে অভিযোগ। সেখানে গ্লাভস পরে চিকিৎসকদের সঙ্গে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। এমনকি অস্ত্রোপচারের কাজে সাহায্য করেছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনার পরেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। কোনও চিকিৎসা প্রশিক্ষণ না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি (TMC Candidate) অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করলেন, সেই নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা। হাসপাতালের নিরাপত্তা এবং নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এই বিষয়ে প্রার্থী হাজারি বাউরি জানিয়েছেন, তিনি আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। তাঁর কথায়, সেই ব্যক্তি মারা গিয়েছেন। ওই সময় রক্ত মুছতে সাহায্য করা স্বাভাবিক বলেই তিনি মনে করেন। তিনি আরও দাবি করেন, গত চার বছর ধরে তিনি এই ধরনের কাজ করে আসছেন। মানুষের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা যদি অপরাধ হয়, তাহলে অভিযোগ জানাতে কোনও আপত্তি নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী মামণি বাউরি এই ঘটনায় কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, কোনও প্রশিক্ষণ ছাড়াই কীভাবে কেউ চিকিৎসকের মতো কাজ করতে পারেন। তিনি অভিযোগ করেন, এভাবে মানুষের জীবন নিয়ে খেলা হচ্ছে।
চিকিৎসক উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সাহায্য করার জন্য কেউ যেতে পারেন ঠিকই, কিন্তু অপারেশন থিয়েটারে অবাধে ঢোকা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। এতে রোগীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহল থেকে চিকিৎসা মহল—সব জায়গাতেই আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোটের প্রচারে এমন ঘটনা কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।













