পূর্ব বর্ধমানের (Bardhman) গোলাপবাগ মোড়ে রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে স্কুটির ডিকি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সহ দুই যুবক-যুবতীকে আটক করেছে পুলিশ। তদন্তে নেমেছে প্রশাসন।
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে মাত্র দু’দিন আগে। শুক্রবার ইংরেজি পরীক্ষা দিয়ে শনিবার ছুটির দিনেই বিয়ের নোটিস দিতে রেজিস্ট্রি অফিসে যান এক ছাত্রী (Bardhman)। প্রেমিকের সঙ্গে স্কুটিতে চেপে হাজির হন পূর্ব বর্ধমানের গোলাপবাগ মোড়ে। কিন্তু রেজিস্ট্রি অফিস থেকে বেরোতেই ঘটে যায় অপ্রত্যাশিত ঘটনা। স্কুটির ডিকি খুলে তল্লাশি চালাতেই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয় বলে অভিযোগ। এরপরই দু’জনকে আটক করে পুলিশ।
ধৃত যুবকের নাম প্রসেনজিৎ বিশ্বাস। তাঁর বাড়ি পাত্রসায়র থানা এলাকার বীজপুরে (Bardhman)। তরুণীর বাড়ি বর্ধমান শহরের ২ নম্বর শাঁখারিপুকুর এলাকায়। তিনি বিদ্যার্থী গার্লস স্কুলের ছাত্রী। তাঁর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সিট পড়েছে হরিসভা হিন্দু গার্লস স্কুলে। শনিবার পরীক্ষা না থাকায় বিয়ের নোটিস দিতে গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, কয়েক দিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে নজরদারি চলছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ শনিবার গোলাপবাগ মোড়ে প্রস্তুত ছিল। রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে স্কুটি রেখে ভিতরে ঢোকেন যুগল। কিছুক্ষণ পরে বাইরে বেরোতেই পুলিশ তাঁদের আটক করে। স্কুটির ডিকি খুলতে বলা হলে ভিতর থেকে একটি ছ’ঘড়া বন্দুক উদ্ধার হয় বলে অভিযোগ। এরপর দু’জনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
খবর পেয়ে থানায় পৌঁছন তরুণীর দিদিমা লক্ষ্মী পাল। তাঁর দাবি, নাতনি প্রায় প্রতিদিনই ওই স্কুটিতে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করতেন। আগে কখনও এমন কিছু পাওয়া যায়নি। হঠাৎ পুলিশ কীভাবে জানল ডিকিতে বন্দুক রয়েছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, নাতনিকে ফাঁসানো হয়েছে।
লক্ষ্মী পালের আরও দাবি, তাঁর মেয়ে বর্তমানে দিঘার একটি হোটেলে কাজ করেন। জুয়েল আহমেদ নামে এক যুবকের সঙ্গে তাঁর মেয়ের সম্পর্ক ছিল। সেই যুবকই নাতনির বিয়ে আটকাতে চক্রান্ত করে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর অনুমান, কেউ সবার অলক্ষ্যে স্কুটির ডিকিতে আগ্নেয়াস্ত্র রেখে দিয়েছে।
পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র কার, কীভাবে স্কুটির ডিকিতে এল এবং এর পিছনে অন্য কোনও চক্রান্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।













