প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে একাধিক জায়গায় ক্ষোভ ও বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দলের শৃঙ্খলা ফেরাতে সরাসরি বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। পূর্ব মেদিনীপুরের পাশকুড়ার সভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, টিকিট না পেয়ে বিরোধিতা করা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
মমতা (Mamata Banerjee) বলেন, অনেক জায়গায় আগের প্রার্থীদের টিকিট দেওয়া যায়নি। তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন দরকার। নতুনদের সুযোগ দিতে হবে, মহিলাদের সুযোগ দিতে হবে, সংখ্যালঘুদেরও জায়গা দিতে হবে। তিনি বলেন, কেউ যদি ভাবেন সবসময় তিনিই থাকবেন, তা ঠিক নয়। দল সবার জন্য, সবাইকে নিয়েই চলতে হবে। তিনি আরও জানান, যারা ভাল কাজ করবেন, তারাই সুযোগ পাবেন। আর যারা কাজ করবেন না, তাদের ক্ষেত্রে দলকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাই সবাইকে একসঙ্গে থেকে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি (Mamata Banerjee)।
সংখ্যালঘু প্রার্থী নিয়ে কিছু জায়গায় যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, সেই বিষয়েও কথা বলেন তিনি। মমতা (Mamata Banerjee) জানান, কোনও প্রার্থীকে ধর্ম দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়। তিনি বলেন, কেউ যেন না ভাবে কোনও প্রার্থী শুধু মুসলমান বলেই আলাদা। তাঁর কথায়, তাঁর কাছে সব ধর্মের মানুষ সমান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনওদিন কি কেউ তাঁকে তাঁর ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে? যদি না তুলে থাকে, তাহলে সংখ্যালঘু প্রার্থী হলে আপত্তি কেন হবে? এতে তাঁরই অসম্মান হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, প্রতিটি আসনই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই দলের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। সতেরোই মার্চ তালিকা প্রকাশের পর এই ক্ষোভ সামনে আসে। এবারে প্রায় চুয়াত্তর জন বর্তমান বিধায়ককে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে অনেক জায়গায় তাঁদের সমর্থকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। কোথাও পুরনো নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন মুখ আনা হয়েছে, আবার কোথাও অন্য কেন্দ্র থেকে প্রার্থী দেওয়ায় ‘বহিরাগত’ অভিযোগ উঠেছে।
এর আগেও মুর্শিদাবাদের নওদায় একই ছবি দেখা যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার আগেই বিক্ষোভ শুরু হয়। ব্লক সভাপতিকে প্রার্থী না করায় তাঁর সমর্থকেরা প্রতিবাদে নামেন। চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে সভামঞ্চ থেকেই অভিষেক কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, কেউ যদি বিশৃঙ্খলা করে দলকে চাপে ফেলতে চান, তাহলে দল তা বরদাস্ত করবে না। তাঁর কথায়, সবার উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং কোনও বিশৃঙ্খলা মেনে নেওয়া হবে না।
সব মিলিয়ে ভোটের আগে তৃণমূলের অন্দরের এই অসন্তোষ এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। তবে নেতৃত্বের বার্তা স্পষ্ট, সব মতভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।












