এসআইআর শুনানিকে (SIR Hearing) ঘিরে দিনভর উত্তেজনা ছড়াল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে। পুলিশের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক, বাদানুবাদ চললেও সব কিছুকে ছাপিয়ে গেল এক সংখ্যালঘু যুবকের অভিনব প্রতিবাদ। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলে, নিজের ও পরিবারের নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে দাদুর কবরের মাটি হাতে শুনানি কেন্দ্রে হাজির হলেন ওই যুবক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র তরজা (SIR Hearing)।
হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের ওয়ারী দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা সালেক নামের ওই যুবকের দাবি, কিছুদিন আগে তাঁর পুরো পরিবারের নামে এসআইআর-এর নোটিস আসে (SIR Hearing)। সমস্ত বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বারবার শুনানিতে হাজির হতে বলা হচ্ছে। সালেক সপরিবারে শুনানি কেন্দ্রে আসেন একটি ব্যাগ হাতে। সেই ব্যাগের ভেতরে ছিল তাঁর দাদুর কবরের মাটি।
সালেক জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে (SIR Hearing)। তাই প্রমাণ করতেই তিনি দাদুর কবরের মাটি সঙ্গে এনেছেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁরা এই দেশেরই মানুষ, ভারতীয়। দিনের পর দিন শুনানির নামে তাঁদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ক্ষোভ উগরে দিয়ে সালেক বলেন, প্রয়োজনে দাদুর ডিএনএ পরীক্ষা করা হোক। তাঁর দাদু ভারতীয় না বাংলাদেশি বা পাকিস্তানি, তা এই মাটি পরীক্ষা করলেই বোঝা যাবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে। এলাকার তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার করে বেছে বেছে সংখ্যালঘু ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। জেলার তৃণমূল নেতা জিয়াউর বলেন, এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর লাইনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। একজন যুবক যখন নিজেকে ভারতীয় প্রমাণ করতে দাদুর কবরের মাটি নিয়ে আসতে বাধ্য হন, তখন পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেন এবং দাবি করেন, এই হয়রানির জবাব মানুষ ২০২৬ সালের ভোটেই দেবে।
তবে তৃণমূলের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। জেলার বিজেপি নেতা কিষণ কিডিয়া বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক ও স্বাধীন সংস্থা। তাদের কাজ করতে দেওয়া উচিত। তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক স্বার্থে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এসআইআর শুনানিকে ঘিরে এই ঘটনায় মালদহের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন এবং সেই প্রশ্নের প্রতিবাদে কবরের মাটি হাতে শুনানিতে হাজির হওয়ার ঘটনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।













