মাত্র দশ দিনের মধ্যে জলপাইগুড়ি জেলায় দুই দফায় মোট ১৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতার হওয়ায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক (Jalpaiguri)।
মাসের শুরুতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নর্থ ইস্ট এক্সপ্রেস ট্রেনে তল্লাশি চালায় রেল সুরক্ষা বাহিনী (Jalpaiguri)। সেই অভিযানে শিশু-সহ মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা সকলেই বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে ঢুকেছিল। কাজের সন্ধানে তারা দিল্লি হয়ে কাশ্মীর যাচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। পরে তাদের আদালতে তোলা হলে ময়নাগুড়ি জিআরপি থানার পুলিশ হেফাজতে নেয় (Jalpaiguri)।
এর কয়েকদিন পর আবার জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) কোতোয়ালি থানার মানিকগঞ্জ ফাঁড়ি এলাকায় রাতের অন্ধকারে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে দুই ব্যক্তিকে আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। জেরায় তারা স্বীকার করে যে তারা বাংলাদেশি নাগরিক এবং কাজের খোঁজে দালালের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসেছে। তাদেরও দিল্লি যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
ভোটের আগে এত অল্প সময়ের মধ্যে ১৬ জন গ্রেফতার হওয়ায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে (Jalpaiguri)। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজগঞ্জ, কোতোয়ালি এবং ময়নাগুড়ি এই তিন থানার এলাকাতেই গত বছর বিভিন্ন সময়ে মোট ২৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতার হয়েছিল। চলতি বছর এখনও পর্যন্ত ২১ জন গ্রেফতার হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে বাম নেতা জিয়াউল আলম বলেন, আগে যেভাবে বিপুল সংখ্যক অনুপ্রবেশের কথা বলা হয়েছিল, তার তুলনায় এই সংখ্যা খুবই কম। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সীমান্তে নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও অনুপ্রবেশ হচ্ছে কেন।
কংগ্রেস নেতা নব্যেন্দু মৌলিক কেন্দ্র এবং রাজ্য—দুই পক্ষকেই দায়ী করেছেন। তাঁর মতে, একদিকে সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য জমি দেওয়া নিয়ে সমস্যা রয়েছে, অন্যদিকে সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে থাকা বাহিনীও পুরোপুরি সফল নয়। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অনুপ্রবেশের বিষয়টি তুলে ধরে রাজ্যে কিছু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
তৃণমূলের মুখপাত্র শুভঙ্কর মিশ্র বলেন, এই সমস্যা নতুন নয়, বহুদিন ধরেই চলছে। তাঁর দাবি, সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বাহিনীর, অথচ গ্রেফতারের বেশিরভাগই করছে রাজ্য পুলিশ।
অন্যদিকে বিজেপি নেতা জীবেশ দাসের অভিযোগ, অতীতে কংগ্রেস ও বাম এবং বর্তমানে তৃণমূল—এই তিন দলের কারণেই রাজ্যে অনুপ্রবেশ বেড়েছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক স্বার্থে এই বিষয়টি ব্যবহার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে সীমান্ত আরও কড়া করা হবে।
সব মিলিয়ে, জলপাইগুড়িতে পরপর অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেফতার হওয়ায় একদিকে যেমন নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তেমনি ভোটের আগে এই ইস্যুতে রাজনৈতিক লড়াইও তীব্র হচ্ছে।













