ফারাক্কায় বিডিও অফিসে তাণ্ডবের ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিল কমিশন। জেলাশাসককে বিকেল ৫টার মধ্যে এফআইআর দায়ের করতে হবে এবং তার পরে সেই তথ্য কমিশনকে জানাতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Election Commission)।
অভিযোগ, ফারাক্কার বিডিও অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। চেয়ার-টেবিল ভাঙার পাশাপাশি বন দফতরের মাইক্রো অবজার্ভারকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পরই কমিশনের কড়া পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে (Election Commission)।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার অভিযোগ, এই ঘটনায় রাজ্য সরকার কার্যত হিংসাকে মদত দিচ্ছে। তাঁর দাবি, ঘটনায় ৬ জন গ্রেফতার হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে হালকা ধারা দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুতই তাঁরা ছাড়া পেয়ে গিয়েছেন। পরে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাঁদের মালা দিয়ে সংবর্ধনাও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
রাহুল সিনহা আরও বলেন, যাঁর নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে এবং যিনি প্রকাশ্যে উত্তেজক মন্তব্য করেছেন, সেই বিধায়ক মণিরুল ইসলামের নাম প্রথমে এফআইআরে ছিল না। তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতি থেকেই বোঝা যাচ্ছে সরকারই এই ধরনের হামলাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। তাই নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন করছে বিজেপি।
অন্যদিকে, কমিশনের নির্দেশ প্রসঙ্গে মণিরুল ইসলাম বলেন, আইন আইনের পথেই চলবে। বিচার ব্যবস্থা সবার জন্য খোলা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগেও নির্বাচন কমিশন একাধিক ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ করেছে। কখনও বিএলওদের বিরুদ্ধে এফআইআর, কখনও প্রশাসনিক কর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রথম কোনও বিধায়কের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর করার নির্দেশ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত এই নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।








