পরিবারে বিবাদ হলে যেমন ঘরের কথা অনেক সময় বাইরে চলে আসে, ঠিক তেমনই ছবি ধরা পড়ল শাসকদল তৃণমূলের অন্দরে (TMC Leader)। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে প্রকাশ্যে এল লোকসভা ভোটে ফলতা বিধানসভা এলাকার ভোট পরিচালনা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ। নিজের দলের আর এক গোষ্ঠীর উপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে হাটের মাঝেই ‘হাঁড়ির খবর’ ফাঁস করে দিলেন এক তৃণমূল নেতা। সেই ভিডিও সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে (TMC Leader)।
সোমবার সন্ধ্যার দিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার কাঁটাখালি এলাকায় একটি বল খেলার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সহায়তায় একটি ক্লাব দু’দিনের খেলা এবং একদিনের রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছিল। অভিযোগ, খেলার প্রথম দিনেই তৃণমূলের এক গোষ্ঠী মঞ্চে উঠে ভাঙচুর চালায়। বাধা দিতে গেলে শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মারধর শুরু হয়। সেখান থেকেই পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে (TMC Leader)।
এই ঘটনার পর প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল নেতা সাইপো শেখ। তিনি বলেন, দু’পক্ষই তৃণমূলের কর্মী হলেও আলতাব ও তাঁর লোকজন মঞ্চ ভাঙচুর করেছে। অভিযোগ করেন, ক্যাশবাক্স থেকে শুরু করে চায়ের মেশিন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি জানান, খেলা হোক বলেই তাঁরা চাইছিলেন, কারণ তাঁরাও তৃণমূলের ভোটার।
কিন্তু রাগের মাথায় সাইপো শেখ আরও এক ধাপ এগিয়ে যান। তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেন, লোকসভা ভোটের সময় তিনি নিজে দাঁড়িয়ে কীভাবে ভোট করিয়েছেন, তা সংশ্লিষ্ট অফিসাররাও জানেন। তিনি বলেন, আইএসএফ করবে বলে যাঁরা ভোট দিতে চেয়েছিলেন, তাঁদের ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। অভিযোগ করেন, ভোটের দিন মিলিটারি বুথের ভিতরে ঢুকে ভোটে বাধা দিচ্ছিল। বিষয়টি দলের নেতাদের জানানো হলে তাঁরা এসে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং এরপর তিনি নিজে ভিতরে ঢুকে ভোট করেন বলেও দাবি করেন।
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূল অস্বস্তিতে পড়ে। দলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ওই নেতা আবেগের বশে কিছু কথা বলে ফেলেছেন। তাঁর কথার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই বলেও দাবি করেন কুণাল। তিনি বলেন, মাঝে মাঝে অতিরঞ্জিত কথা বলে ফেলার প্রবণতা থাকে, কিন্তু এগুলি সত্য নয়।
অন্যদিকে এই ঘটনায় তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ঘোষ বলেন, তৃণমূল যেমন দল, তেমনই কাজ। তাঁর বক্তব্য, ওই নেতাকে বিজেপিতে পুরস্কৃত করা উচিত। পাশাপাশি রামকৃষ্ণ পরমহংসের উক্তি টেনে তিনি বলেন, মন আর মুখ এক করার ফলই আজ সামনে এসেছে।
তৃণমূলের অন্দরের এই বিবাদ ও প্রকাশ্যে আসা বক্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। ভোটের আগে শাসকদলের অন্দরমহলের এই ছবি কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।











