বেলডাঙা মামলায় (Beldanga Case) আবারও এনআইএ বিশেষ আদালতে পেশ করা গেল না অভিযুক্তদের। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ৩৬ জন অভিযুক্তকে আদালতে তোলা সম্ভব হল না। অভিযোগ, এনআইএ বিশেষ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ এসকর্ট দেওয়া হয়নি (Beldanga Case)।
জানা গিয়েছে, এসকর্ট না মেলার কারণেই বৃহস্পতিবারও বহরমপুর জেল থেকে অভিযুক্তদের (Beldanga Case)কলকাতার এনআইএ বিশেষ আদালতে আনা যায়নি। সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ ‘রেডিওগ্রাম’ বার্তা পাঠিয়ে জেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ায় পর্যাপ্ত পুলিশ কর্মী নেই। সেই কারণেই এসকর্ট দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এরপর বহরমপুর জেল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের (Beldanga Case) ভার্চুয়াল মাধ্যমে আদালতে পেশ করার অনুমতি চেয়ে আবেদন জানায়। তবে বিষয়টি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
গত জানুয়ারির শুরুতে মুর্শিদাবাদে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, এক শ্রমিককে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর দেহ জেলায় ফিরতেই বিক্ষোভ শুরু হয়। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করা হয়। রেললাইনেও অবরোধ চলে। শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার মহেশপুর সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনে বাঁশ ফেলে বিক্ষোভ দেখানো হয়। সেই বাঁশে ঝুলন্ত মৃতদেহের ছবি টাঙানো ছিল বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছলে বচসা শুরু হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনাও সামনে আসে। খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন কয়েক জন সাংবাদিকও।
পরে এই ঘটনার তদন্তভার নেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই মামলার তদন্ত করবে এনআইএ।
তবে অভিযোগ উঠেছে, বেলডাঙা মামলায় এনআইএ-কে সহযোগিতা করা হচ্ছে না। বহরমপুর জেল থেকে কলকাতার এনআইএ আদালতে অভিযুক্তদের পাঠানো হচ্ছে না বলে দাবি। সূত্রের খবর, জেলা পুলিশ এসকর্ট দেয়নি বলেই ‘হাই রিস্ক প্রিজনার’দের আদালতে তোলা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এই পরিস্থিতিতে মামলার অগ্রগতি কোন পথে এগোয়, তা নিয়েই এখন জোর আলোচনা চলছে।













