জীবন কত দ্রুত বদলে যেতে পারে, তার বড় উদাহরণ সূর্যকুমার যাদব (Surya Kumar Yadav)। পাঁচ বছর আগেও ভারতের জাতীয় দলে তাঁর অভিষেক হয়নি। আর আজ তিনি দেশের অধিনায়ক, তাও আবার বিশ্বজয়ী অধিনায়ক। কপিল দেব, মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং রোহিত শর্মার মতো কিংবদন্তিদের পাশে এখন উচ্চারিত হচ্ছে সূর্যকুমার যাদবের (Surya Kumar Yadav) নাম।
বিশ্বকাপ জয়ের পর হঠাৎই তিনি ফিরে গেলেন বারো বছর আগের স্মৃতিতে (Surya Kumar Yadav)। সামাজিক মাধ্যমে নিজের পুরনো একটি ছবি শেয়ার করেছেন সূর্যকুমার। ছবিটি ২০১৪ সালের। তখনও তাঁর ক্রিকেট জীবনে তেমন পরিচিতি আসেনি। আইপিএলে খেললেও বড় সাফল্য আসেনি, জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার স্বপ্নও তখন অনেক দূরের।
সেই সময়ের একটি ছবিতে দেখা যায়, একটি পেট্রোল পাম্পের উদ্বোধনে উপস্থিত রয়েছেন সূর্যকুমার (Surya Kumar Yadav)। ছবিটি পোস্ট করে তখন তিনি লিখেছিলেন, ‘বন্ধুরা, পেট্রোল পাম্পের উদ্বোধনে এসেছি। আজ খুব খুশি।’
বারো বছর পর সেই ছবিটিই আবার শেয়ার করেছেন তিনি। তবে এবার তাঁর হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি। ছবির সঙ্গে সূর্য লিখেছেন, ‘এই লোকটার জন্য খুব খুশি।’ অর্থাৎ বারো বছর আগের সেই সংগ্রামী সূর্যকুমারকেই যেন ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি (Surya Kumar Yadav)।
আরও একটি পোস্টে সূর্য লিখেছেন, এই দলটা শুধু একটি দল নয়, এটি একটি পরিবার। তাঁর মতে, এটি শুধু একটি ট্রফি নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন। দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা তাঁর কাছে বড় গর্বের বিষয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি যাঁরা সব সময় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের সকলকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন (Surya Kumar Yadav)।
ক্রিকেট জীবনে সূর্যকুমার অনেক উত্থান-পতনের সাক্ষী। দুই হাজার তেইশ সালে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত একদিনের বিশ্বকাপের ফাইনালেও খেলেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই দিন হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ভারতকে।
তবে সেই একই মাঠেই এবার নতুন ইতিহাস গড়েছেন সূর্যকুমাররা। বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি মনে করে তিনি বলেছেন, ক্রীড়াবিদের জীবন এমনই হয়। দুই হাজার তেইশ সালের হতাশার পর দুই হাজার চব্বিশ সালে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে ভারত। ফাইনালে তাঁর নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ তাঁর জীবন বদলে দেয় বলেও জানান তিনি।
তারপরই দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব তাঁর হাতে আসে। সূর্য বলেন, তিনি জানতেন দুই বছরের মধ্যেই দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ হতে চলেছে। আর দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলার অনুভূতি সব সময়ই আলাদা। তিনি দলের সকলকে বলেছিলেন, সেই উত্তেজনাকে উপভোগ করতে।
মানুষের প্রত্যাশা থাকবে, কিন্তু সেই প্রত্যাশা থেকেই শক্তি পাওয়া যায় বলেও মনে করেন সূর্যকুমার। সেই বিশ্বাস নিয়েই দল বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল। আর যেভাবে বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখেছিল, ঠিক সেভাবেই খেলেই শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছে ভারত।











