পাকিস্তানের (Pakistan) হকির বেহাল অবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিদেশ সফরে চরম হয়রানির অভিযোগ সামনে আসার পর মুখ খুলেছিলেন পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের অধিনায়ক আম্মাদ বাট। সেই মন্তব্যের জেরেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলে তাঁকে দু’বছরের জন্য নির্বাসিত করা হয় (Pakistan)। অধিনায়কের এই শাস্তি ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে পাকিস্তান হকির অন্দরে।
এই উত্তেজনার মাঝেই এগিয়ে এলেন মহসিন নকভি (Pakistan), যিনি একদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড-এর চেয়ারম্যান, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়কমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, হকি দলের মনোবল ফেরাতে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় তিন লক্ষ ছাব্বিশ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি (Pakistan)। একই সঙ্গে অধিনায়ক বাটের নির্বাসন প্রত্যাহারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। নকভির মতে, বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের আগে দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বাইরে রাখা দলের জন্য ক্ষতিকর, তাই ভুল শুধরে সামনে এগোনোই এখন প্রধান লক্ষ্য।
অধিনায়কের (Pakistan) শাস্তি ঘোষণার পর চাপ বাড়তে থাকে পাকিস্তান হকি ফেডারেশন-এর উপর। বিতর্কের আবহে সংস্থার কর্তা তারিক বুগতি পদত্যাগ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি অন্তর্বর্তী সভাপতি হিসেবে মহিউদ্দিন আহমেদ ওয়ানি-কে দায়িত্ব দেন এবং সংকট কাটাতে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয় নকভিকেও।
খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন নকভি। অব্যবস্থার জন্য সরকারের তরফে দুঃখপ্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের সম্মান রক্ষা করাই সবার আগে এবং কোনওভাবেই তা ক্ষুণ্ণ হতে দেওয়া যাবে না। দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। শনিবার থেকে মিশর-এ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে নামার কথা পাকিস্তান দলের। সেই কারণে জরুরি ভিত্তিতে সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ক্রিকেটের পরিকাঠামো ব্যবহার করার কথাও বলা হয়েছে বোর্ড কর্তাদের।
খেলোয়াড়দের সঙ্গে সাক্ষাতের পর প্রত্যেকের হাতে দশ লক্ষ পাকিস্তানি টাকার চেক তুলে দেন নকভি। সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানান, তিনি ফেডারেশনের সভাপতি হতে চান না, তবে অচলাবস্থা না কাটানো পর্যন্ত খেলোয়াড়দের পাশে থাকবেন। এদিকে নেটমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে যে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির সহ দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা ফেরাতেই নকভির এই সক্রিয় ভূমিকা।
পাক হকির অন্দরের এই নাটকীয় পরিস্থিতি ঘিরে ক্রীড়ামহলে জল্পনা তুঙ্গে। বিশ্বকাপের আগে সংকট কাটিয়ে দল কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।












