ভারত ও নামিবিয়ার দূরত্ব প্রায় সাড়ে আট হাজার কিলোমিটার। ক্রিকেট শক্তির দিক থেকেও দুই দেশের ব্যবধান অনেকটাই। তবু লড়াইয়ে কোনও ভয় দেখায়নি আফ্রিকার দেশটি (T20 World Cup)। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শক্তির পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে গেল। ভারতের দেওয়া ২১০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১৬ রানেই শেষ হল নামিবিয়ার ইনিংস। ৯৩ রানের বিশাল জয় পেল ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটিই ভারতের সবচেয়ে বড় জয়।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত (T20 World Cup)। ওপেন করতে নেমে সঞ্জু স্যামসন মাত্র ৮ বলে ২২ রান করেন। অপর প্রান্তে দুরন্ত ছন্দে থাকা ঈশান কিষান ২৪ বলে ৬১ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ছয়টি বাউন্ডারি ও পাঁচটি ছক্কা। আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়েই তিনি আউট হন। এরপর সূর্যকুমার যাদব ১২ ও তিলক বর্মা ২৫ রান করে ফিরলে কিছুটা চাপে পড়ে ভারত। শেষ দিকে হার্দিক পাণ্ডিয়া ২৮ বলে ৫২ রান করে দলকে ২০০ পেরোতে সাহায্য করেন (T20 World Cup)। তবে শেষ পাঁচ ওভারে মাত্র ২৫ রান তুলে ৫ উইকেট হারানো পাকিস্তান ম্যাচের আগে চিন্তার কারণ হয়ে থাকছে।
২১০ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে শুরুটা খারাপ করেনি নামিবিয়া। পাওয়ার প্লেতে তারা ৫৭ রান তোলে। জ্যান ফ্র্যাঙ্কলিন ২২ রান করেন। লৌরেন স্টিনক্যাম্প করেন ২৯। একসময় রানরেট ছিল ওভার পিছু প্রায় নয়। তখন ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছিল নামিবিয়া।
কিন্তু সেখানেই ম্যাচের মোড় ঘোরান বরুণ চক্রবর্তী। তাঁর রহস্যময় স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে পরপর উইকেট হারায় নামিবিয়া। জান নিকোল লফ্টি-এটন ১৩ রান করে আউট হন। জেজে স্মিট শূন্য রানে ফিরেন। বরুণ দু’ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন।
অক্ষর প্যাটেলও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেন (T20 World Cup)। তিনি ২টি উইকেট নেন। হার্দিক পাণ্ডিয়া ২টি উইকেট পান। জশপ্রীত বুমরাহ তাঁর নিখুঁত ইয়র্কারে ট্রাম্পেলম্যানকে আউট করেন। অর্শদীপ ও শিবম দুবেও একটি করে উইকেট নেন। ফলে ১১৬ রানেই শেষ হয়ে যায় নামিবিয়ার ইনিংস।
এই ম্যাচটি ছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বড় লড়াইয়ের আগে ভারতের প্রস্তুতি ম্যাচের মতো। রবিবার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। তবে চিন্তা রয়েছে ভারত শিবিরে। মিডল অর্ডারের ধারাবাহিকতা এখনও প্রশ্নের মুখে। চোট-আঘাতও ভাবাচ্ছে দলকে। পাকিস্তান ইতিমধ্যেই এই মাঠে দুটি ম্যাচ খেলেছে। ফলে পরিবেশের সঙ্গে তারা অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছে।
ভারত আমেরিকা ও নামিবিয়াকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেও, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামার আগে নতুন করে শুরু করতে হবে। কোচ গৌতম গম্ভীর জানেন, এই ম্যাচের চাপ আলাদা। ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা না এলে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। শ্রীলঙ্কার পিচ ফ্ল্যাট নাও হতে পারে। ফলে কৌশল ও মানসিক দৃঢ়তাই হতে পারে আসল চাবিকাঠি।













