যে মাঠ থেকে একদিন বিরাট কোহলি, যুবরাজ সিং, মহম্মদ কাইফদের উত্থান, সেই মঞ্চেই এ বার সোনার ফসল। সেখান থেকেই উঠে এল নতুন এক নায়ক (U19 World Cup)। নাম বৈভব সূর্যবংশী। গল্পটা শুধু একটি ম্যাচের নয়, শুরুটা হয়েছিল আগের আইপিএল থেকেই। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ওপেন করতে নেমে সেঞ্চুরি করে চমকে দিয়েছিল গোটা ক্রিকেট দুনিয়াকে। সেই বিস্ময়বালকই অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে নামার আগেই হয়ে উঠেছিল তারকা (U19 World Cup)।
যে দিন বৈভব ব্যাট করতে নামে, গ্যালারির উন্মাদনা থামার নাম নেয় না। তাঁর ব্যাট যেন বিশ্রাম নিতে জানেই না। সেই ব্যাটের জোরেই অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ (U19 World Cup) জিতল ভারত। ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৮০ বলে ১৭৫ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন বৈভব। ভারত তোলে ৪১১ রান। জবাবে ইংল্যান্ডকে ১০০ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতে ভারতীয় দল।
ইংল্যান্ডের তরুণ দল অবশ্য শুরুতে লড়াইয়ের চেষ্টা করেছিল। ওপেনার বেন ডকিন্স করেন ৬৬ রান। বেন মায়েস ২৮ বলে ৪৫ রান করে ঝড় তোলেন। থমাস রিউ ১৮ বলে ৩১ রান করেন। তাতে কিছুটা হলেও ম্যাচ (U19 World Cup) ঘুরে যেতে পারে বলে মনে হচ্ছিল। পরে সেলেব ফ্যালকনার ক্রিজে এসে ইংল্যান্ডকে ফের লড়াইয়ে ফেরান। তিনি ৬৭ বলে ১১৫ রান করেন, মারেন ৯টি চার ও ৭টি ছয়। কিছু সময়ের জন্য ভারতীয় বোলিং চাপে পড়ে।
তবে সেলেব আউট হতেই ফের ম্যাচের রাশ নেয় ভারত। আরএস অম্বরীশ বল হাতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। দীপেশ দেবেন্দ্রন ও কনিষ্ক চৌহান নেন দু’টি করে উইকেট। এরপর আর ফিরে দাঁড়াতে পারেনি ইংল্যান্ড। ফাইনালের সেরা এবং গোটা টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন বৈভব সূর্যবংশী।
এর আগে পাঁচবার অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। এ বার সেই সংখ্যাটা দাঁড়াল ছয়ে। ট্রফি জয়ের পর কোচ ঋষিকেশ কানিতকর বলেন, অনুভূতিটা অসাধারণ। ছেলেদের জন্য গর্ব হচ্ছে। ইংল্যান্ড লড়াই করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতীয় দলই ম্যাচটা জিতে নেয়। ট্রফি জেতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, ছেলেদের উন্নতিই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
দলের একমাত্র বাঙালি ক্রিকেটার অভিজ্ঞান কুন্ডু বলেন, একটা সময় চাপ ছিল, তবে ধৈর্য ধরে খেলেছেন তাঁরা। বোলারদের পাশে থেকেছেন সবাই। বোলারদের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। দু’বছরের কঠিন পরিশ্রমের ফল হাতে পেয়েছেন তাঁরা। আগের বার অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছিলেন, এ বার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে আবার বিশ্বকাপ জিতেছেন। বৈভব শুরুতেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলে দেয়। ও নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলেছে।






