ভারত যে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য ‘নিরাপদ নয়’, এই দাবি আর বদলে যাওয়া পরিস্থিতির কারণে ভেঙে পড়েনি। ভেঙে পড়েছে ঢাকা নিজেই নিজের কথার সঙ্গে বিরোধ তৈরি করায় (T20 World Cup)। কয়েক দিন আগেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup) দল পাঠাতে অস্বীকার করেছিল। অথচ তার মধ্যেই বাংলাদেশের এক শ্যুটারকে সরকারি অনুমতি দিয়ে দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে।
জানুয়ারি মাসের শেষে বাংলাদেশের শ্যুটার রবিউল ইসলাম কোচ ও সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে নয়াদিল্লিতে পৌঁছন। তিনি সেখানে অনুশীলন করছেন, থাকছেন এবং এশিয়ান শ্যুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিচ্ছেন। কোনও নিরাপত্তা সমস্যা, বিক্ষোভ বা হুমকির খবর পাওয়া যায়নি। এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে ২ ফেব্রুয়ারি এবং চলবে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। দিল্লির কর্ণী সিং শ্যুটিং রেঞ্জে ২০টি দেশের ৩০০-র বেশি ক্রীড়াবিদ অংশ নিচ্ছেন।
এর মধ্যেই আরও এক দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup) খেলতে ভারতে আসা মার্কিন ক্রিকেট দলের সদস্যদের মুম্বইয়ের রাস্তায় গলগপ্পা খেতে দেখা যায়। স্থানীয় দোকানে দাঁড়িয়ে হাসি-মজা করে স্ট্রিট ফুড খাওয়ার সেই ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। কোনও আতঙ্ক নেই, কোনও নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, যদি ভারত এতটাই অনিরাপদ হয়, তা হলে বিদেশি খেলোয়াড়েরা এ ভাবে রাস্তায় ঘুরছেন কী করে?
নেদারল্যান্ডস, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল, আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড-সহ একাধিক দেশ ইতিমধ্যেই ভারতে এসে অনুশীলন করছে, ম্যাচ খেলছে, শহর ঘুরছে। কেউই নিরাপত্তা নিয়ে কোনও অভিযোগ করেনি। অথচ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড শুধু ক্রিকেটের ক্ষেত্রেই ভারতকে অনিরাপদ বলছে।
জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং মুহাম্মদ ইউনুস সরকারের প্রতিনিধিরা প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ভারত বাংলাদেশি ক্রিকেটার (T20 World Cup), সাপোর্ট স্টাফ, সাংবাদিক এবং কর্তা ব্যক্তিদের জন্য নিরাপদ নয়। সেই যুক্তিতেই ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বোর্ড সভাপতি নাজমুল হোসেন নিরাপত্তার কথা বলেন। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আবার ‘জাতীয় মর্যাদা’র প্রসঙ্গ তোলেন। যদিও আইসিসির নিরাপত্তা মূল্যায়নে কোনও নির্দিষ্ট হুমকির কথা উঠে আসেনি।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায় এবং তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেই একের পর এক ঘটনায় ঢাকার এই নিরাপত্তা যুক্তি প্রশ্নের মুখে পড়ে যায়। যদি শ্যুটার, বিদেশি ক্রিকেট দল, এমনকি মার্কিন খেলোয়াড়েরা রাস্তায় গলগপ্পা খেতে পারেন, তা হলে সমস্যা কোথায়?
এই প্রশ্নের কোনও উত্তর এখনও দেয়নি বাংলাদেশ। অনেকের মতে, এই নিরাপত্তা আতঙ্ক আসলে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রভাবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।
শেষ পর্যন্ত ভারতের কিছু বদলাতে হয়নি। আইসিসিকেও কিছু প্রমাণ করতে হয়নি। বাস্তবটাই বাংলাদেশের দাবিকে ভেঙে দিয়েছে। দিল্লির শ্যুটিং রেঞ্জ থেকে মুম্বইয়ের গলগপ্পার দোকান—সব মিলিয়ে বাস্তবতাই বলছে অন্য কথা।











